বিনোদন

জিৎকে নামিয়ে উঠলেন শাকিব খান

কলকাতায় গেল ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবির মধ্যে জিৎ অভিনীত ‘সুলতান দ্য স্যাভিয়র’ ১৪২টি প্রেক্ষাগৃহে প্রথম ছয় দিনে ১ কোটি ৪৮ লাখ রুপি, শাকিব খানের ‘ভাইজান এলো রে’ ৭৫টি প্রেক্ষাগৃহ থেকে ১ কোটি ৯ লাখ রুপি আর সালমান খানের ‘রেস থ্রি’ ছবিটি আয় করেছে ৬ কোটি ৮১ লাখ রুপি।

কিন্তু প্রেক্ষাগৃহ বিচারে সালমানের ‘রেস থ্রি’-এর পরেই ছিল শাকিব খানের অবস্থান। এর আগেও বাংলাদেশের অনেক নায়কের ছবি কলকাতায় মুক্তি পেয়েছে। ব্যবসায়িক দিক থেকে শাকিব সবার চেয়ে এগিয়ে। এদিকে সাফটা চুক্তির মাধ্যমে গত শুক্রবার (২০ জুলাই) বাংলাদেশে মুক্তি পায় কলকাতার জিৎ এর ছবি ‘সুলতান’। আর গতকাল শুক্রবার (২৭ জুলাই) মুক্তি পেয়েছে শাকিব খান অভিনীত কলকাতার ছবি ‘ভাইজান এলো রে’।

২০ জুলাই সারা দেশের ১১৮টি সিনেমা হলে মুক্তি পেয়েছিল জিৎ-মিমের ‘সুলতান’। এক সপ্তাহ পর গতকাল সেই সংখ্যা কমে এসেছে ৭০টি সিনেমা হলে। কমেছে ৪৮টি সিনেমা হল। অন্যদিকে ২৭ জুলাই দেশের ১০৯টি সিনেমা হলে মুক্তি পেয়েছে জয়দ্বীপ মুখার্জি পরিচালিত, সুপারস্টার শাকিব খান অভিনীত কলকাতার চলচ্চিত্র ‘ভাইজান এলো রে’।

ঢাকার মতিঝিলে অবস্থিত মধুমিতা সিনেমা হলে ‘সুলতান’ সরে গিয়ে জায়গা করে নিয়েছে ‘ভাইজান’। মাত্র এক সপ্তাহ পরই কেন নেমে গেল ‘সুলতান’ জানতে চাইলে হলের সহকারী ম্যানেজার আবদুর রহমান বলেন, “আসলে জিতের ছবি বাংলাদেশের দর্শক যথেষ্ট পছন্দ করে। কিন্তু জিতের চেয়ে শাকিব খানের দর্শক অনেক বেশি। বিশেষ করে কলকাতার যেসব ছবিতে শাকিব খান অভিনয় করছেন, সেই ছবিগুলো দর্শক বেশি পছন্দ করে। যে কারণে আমরা মাত্র এক সপ্তাহ চালিয়ে ছবিটি নামিয়ে দিয়েছি। দুই সপ্তাহের মতো ‘ভাইজান’ চালিয়ে আবারও ‘সুলতান’ ছবিটি প্রদর্শন করার ইচ্ছা আছে আমাদের।”

কাকরাইলে অবস্থিত রাজমণি সিনেমা হলে আবার এখনো ‘সুলতান’ ছবিটিই চলছে। এর কারণ হিসেবে রাজমণি সিনেমা হলের ম্যানেজার দীলিপ কুমার বলেন, “আমাদের পাশের জোনাকী সিনেমা হলে ‘ভাইজান’ চলছে। পাশাপাশি হওয়ায় আমরা চলতি সপ্তাহে ‘সুলতান’ ছবিটিই প্রদর্শন করছি। যদিও গত এক সপ্তাহ খুব ভালো ব্যবসা করতে পারেনি ছবিটি।

আমাদের কাছে মনে হয়েছে, ছবিটি পাইরেসি হওয়ার কারণে ব্যবসা করতে পারেনি। এমনিতে ছবিটি অনেক ভালো হয়েছে। তা ছাড়া কলকাতার ছবির দর্শক আমাদের দেশে আছে। এবং আমাদের দেশের দর্শক মনে করেন, কলকাতা আমাদের চেয়ে ভালো ছবি নির্মাণ করে। তবে শাকিব খানের ছবি আমরাও প্রদর্শন করতে চাই। আগামী সপ্তাহে ‘ভাইজান’ ছবিটি আমাদের সিনেমা হলে মুক্তি দেবো।’

এদিকে মুক্তির দিনেই বৃষ্টির মুখে শাকিব খানের আলোচিত ছবি ‘ভাইজান এলো রে’! সকাল থেকে বৃষ্টি থাকায় আশঙ্কা ছিলো, প্রেক্ষাগৃহে লোকজন আসবে তো? কিন্তু সব আশঙ্কা দূরে ঠেলে দেশের প্রতিটি প্রেক্ষাগৃহে দর্শক সমাগম সন্তুষ্টিজনক বলে জানিয়েছেন হল মালিকরা।

রাজধানীর পল্টনের জোনাকি সিনেমা হলে চলছে ‘ভাইজান এলো রে’। হলের ব্যবস্থাপক দেলোয়ার হোসেন চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, দুই শোতে ভালো দর্শক ছিল। মনে করেছিলাম বৃষ্টিতে ছবিতে দর্শক আসবে না। কিন্তু ধারণা পাল্টে গেছে। সন্ধ্যার শোর জন্য আগাম টিকেট বিক্রি হচ্ছে। ভালো ছবি হলে যে দর্শক সিনেমা হলে আসে তার প্রমাণ ‘ভাইজান এলো রে’।

মিরপুর ১ এর সনি সিনেমা হলেও চলছে ভাইজান এলো রে। সেখানকার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, মর্নিং (সাড়ে ১০টা) এবং স্পেশাল (সাড়ে ১২ টা)’র শোতে হাউজ ফুল হয়নি। এভারেজ দর্শক ছিল। ম্যাটানি শো হাউজফুল হবে। বৃষ্টি হলে দর্শক কমবে না। আগামী তিন-চার দিন রমরমা অবস্থা থাকবে। কারণ, আমি ছবিটা দেখে ফেলেছি। দর্শক খাবে ছবিটা।