আর্ন্তজাতিক

জালিয়াত এই শিল্পপতি!!

ডেস্ক রিপোর্ট :‌ দেড় কোটি টাকা দিয়ে এক কানাডিয়ানকে নকল হিরে বিক্রি করেছিলেন নীরব মোদি। ওই বিদেশি সেটি কিনেছিলেন প্রেমিকাকে দেবেন বলে। নকল হিরে প্রেমিক দিয়েছে জানতে পেরে রেগে আগুন প্রেমিকা সম্পর্কে ইতি টানেন।
১২০০০ কোটি টাকা ব্যাঙ্ক জালিয়াতির পর আপাতত ফেরার দেশে অন্যতম ধনী শিল্পপতি নীরব মোদির যে আরও গুণ রয়েছে সেটা জানা ছিল না কানাডিয়ান পল আলফন্সোর। হংকংয়ে নীরব মোদির গয়নার দোকান থেকে প্রেমিকার জন্য প্রায় দেড় কোটি টাকা দিয়ে একটি হিরের আংটি কিনেছিলেন তিনি।
তখন নীরব মোদি দেশে নাম করা সেলিব্রিটি জুয়েলারি ডিজাইনার। এতবড় জালিয়াত এই শিল্পপতি জানা ছিল না ওই কানাডিয়ান যুবকের। ২০১২ সালে মেলেবুতে নীরবের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল তাঁর। অনেকটা বড় দাদার মতই আলফন্সোর সঙ্গে মিশেছিলেন নীরব। বিশ্বাস অর্জন করে তাঁকে বোকা বানাতে সময় লাগেনি নীরবের। গত বছর এপ্রিলে নীরব মোদিকে ইমেল করে নিজের বাগদানের অনুষ্ঠান হবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

সেজন্য একটি হিরের আংটি তৈরির অর্ডারও দেন। জালিয়াত নীরব তাঁকে ৩.‌২ ক্যারেট হিরের আংটি তৈরি করে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। আলফান্সোর প্রেমিকা কিন্তু তখন বলেছিলেন অন্য কোনও গয়নার দোকান থেকে আংটি কেনার কথা। কিন্তু নীরবের সঙ্গে সম্পর্ক এতটাই ভাল হয়ে গিয়েছিল তাঁর যে প্রেমিকার প্রস্তাবে আমল দেননি তিনি।

নীরবকেই বিশ্বাস করেছিলেন। যার পরিণতিতে সম্পর্কটাই ভেঙে গেল আলফান্সোর। দেড় কোটি টাকা দিয়ে যে হিরের আংটিটি প্রেমিকার জন্য তিনি কিনেছিলেন সেটা ছিল নকল হিরের। তারপরে নীরবের বিরুদ্ধে ক্যালিফোর্নিয়ার আদালতে প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই কানাডিয়ান।

গত কয়েক বছরে এক ঝাঁক প্রভূত ধনী শিল্পপতি ব্যবসায়ীর রাজনৈতিক নেতা মন্ত্রীদের সঙ্গে বোঝাপড়ার মাধ্যমে ব্যাঙ্কের টাকা তছরুপের পরে বা অন্যান্য আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়ার পর বিদেশে পালিয়ে যেতে দেখা গেছে। যেমন, বিজয় মাল্য, ললিত মোদি, যতীন মেহতা, মেহুল চোকসি, নীরব মোদি প্রমূখ। রহস্যজনকভাবে এদের গ্রেফতারের সম্ভাবনা দেখা দিলেই এরা খবর পেয়ে যান ও দেশ ছাড়েন। শাসক রাজনৈতিক দল বিজেপির সঙ্গে এদের নৈকট্যও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই যথেষ্ট বেশী। বিজয় মালিয়া ছিলেন বিজেপি সমর্থিত রাজ্যসভার সাংসদ, ললিত মোদি রাজস্থানের বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়ার কোটারির লোক, আগেই লেখা হয়েছে মেহুল-নীতীশের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির জান পেহচানের কথা। সুরাজ ডায়ামন্ড ওরফে উইনসাম ডায়ামন্ডের মালিক যতীন মেহতা ৭০০০ কোটি টাকা মেরে দিয়ে ভারত ছেড়ে সেন্ট কিটস দ্বীপের নাগরিক হয়েছেন। তিনিও গুজরাটের লোক। খুঁজলে গুজরাট মডেলের মাঝে তাকেও পাওয়া যাবে। ফলে দেশের ধনীরা সাধারণ মানুষের ব্যাঙ্কে গচ্ছিত অর্থে থাবা বসাবে, আর ব্যাঙ্কের লোককসান ভরাতে সরকার মূলধন সরবরাহ করবে বা আরো এক ধাপ এগিয়ে আমানতকারির টাকায় ব্যাঙ্কগুলিকে বেইল-ইন করার ঘুঁটি সাজাবে। ওদিকে ঋন করে কৃষিতে উৎপাদন করে ফসলের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে কৃষক ঋণ শোধ করতে না পারলে ব্যাঙ্ক কর্তারা তাদের বাড়ি পেয়াদা পাঠিয়ে উত্যক্ত করে তুলে তার সামাজিক মান মর্যাদা ধূলায় মিশিয়ে দেওয়ার ফলে কৃষক আত্মহত্যা করতে বাধ্য হবে। এভাবেই তৈরী হচ্ছে মহান ভারত।