বরিশাল বিভাগ

জাপা থেকে বহিষ্কারের পরও তাপস মাঠে

বহিষ্কারের পরেও বরিশালে স্থানীয় জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা ইকবাল হোসেন তাপসের পাশে রয়েছে। কেন্দ্রের নির্দেশ অমান্য করে গতকাল শনিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তাপসকে সঙ্গে নিয়ে জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা নগরের বিভিন্ন এলাকায় প্রাচার চালিয়েছে।

স্থানীয় নেতাদের দাবি, দলের চেয়ারম্যানের লিখিত নির্দেশ ছাড়া তাপসের পাশ থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। তাই ভোট শেষ হওয়ার আগ পর্যন্তই তাঁরা তাপসের পাশে থাকবেন।

শুক্রবার রাতে জাতীয় পার্টি রাজধানীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও কেন্দ্রের নির্দেশ অমান্য করার দায়ে ইকবাল হোসেন তাপসকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানায়।

জাতীয় পার্টি সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার দলীয় চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নির্দেশে বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন থেকে ইকবাল হোসেন তাপসকে সরে দাঁড়াতে বলেন দলের মহাসচিব। একই সঙ্গে তাঁকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে সমর্থন দেওয়ার জন্য বলা হয়। এ নির্দেশ পাওয়ার পরেও ইকবাল হোসেন তাপস নির্বাচন করার ঘোষণা দেন এবং তিনি স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে প্রচার চালান। পাশাপাশি তিনি দলীয় প্রধানের কোনো লিখিত কিংবা মৌখিক নির্দেশ পাননি বলে জানান। এ নিয়ে তিনি শুক্রবাব বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন, যা দলের বিরুদ্ধে গেছে বলে কেন্দ্রীয় নেতারা মনে করেন। তাই শুক্রবার রাতেই দলের চেয়ারম্যানের ক্ষমতাবলে তাপসকে বহিষ্কার করা হয়।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি খন্দকার দেলোয়ার জালালী বলেন, কেন্দ্রীয় নির্দেশ অমান্য করে বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করার ব্যাপারে অনড় থাকা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সম্পর্কে আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়াসহ দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ইকবাল হোসেন তাপসকে দলের সব পদ ও পদবি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গঠনতন্ত্রের ২০/১/ক ধারা মোতাবেক গতকাল তাপসের বহিষ্কারাদেশে স্বাক্ষর করেছেন এরশাদ। এরই মধ্যে এই বহিষ্কারাদেশ কার্যকর হয়েছে বলে খন্দকার দেলোয়ার জালালী জানান।

কিন্তু গতকাল তাপস নগরের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভা করেছেন। তাঁর সঙ্গে ছিল জাতীয় পার্টির জেলা ও নগর শাখার নেতাকর্মীরা। সকাল সাড়ে ১১টায় নগরের স্বরোডের সোনালি মোড় এলাকায় থেকে তাঁর প্রচারাভিযান শুরু হয়। এরপর একে একে আমানতগঞ্জ, বেলতলা, ভাটিখানা, চন্দ্রপাড়া এলাকায় গণসংযোগ করেন তিনি। বিকেলে তিনি অক্সফোর্ড মিশন রোডের নির্বাচনীয় প্রধান কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বৈঠক করেছেন। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত তাপস নগরীর সাগরদী, রূপাতলী, জাগুয়া এলাকায় পথসভা করেন। এ সময়ে তাঁর সঙ্গে ছিল জাতীয় পার্টির জেলা শাখার সভাপতি মহসিন উল ইসলাম হাবুলসহ দলের জেলা ও মহানগর শাখার ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

তাপসের প্রধান নির্বাচন সমন্বয়কারী মহসিন উল ইসলাম হাবুল বলেন, ‘টেলিভিশন চ্যানেল আর সংবাদপত্রের মাধ্যমে শুনেছি জাতীয় পার্টি ইকবাল হোসেন তাপসকে বহিষ্কার করেছে। কিন্তু কেন্দ্র থেকে বহিষ্কারের নির্দেশাবলির কোনো চিঠি পাইনি। আর নির্বাচনী মাঠের যে অবস্থা এই মুহূর্তে মাঠ ছেড়ে উঠে যাওয়ার কোনো অবস্থা নেই। এটা দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের বুঝতে হবে।’

বহিষ্কারের পরে নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ইকবাল হোসেন তাপস বলেন, ‘টেলিভিশন চ্যানেল ও পত্রিকার মাধ্যমে আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে শুনেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত দলের চেয়ারম্যান কিংবা মহাসচিব মৌখিক অথবা লিখিত কিছু জানাননি। স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের দাবির মুখে নির্বাচন চালিয়ে যাচ্ছি। দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থকসহ সাধারণ ভোটারদের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছি, ভোটের মাঠে আছি এবং থাকব। তাই শেষ সময়ে মাঠ থেকে সরে দাঁড়ানো কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘বরিশালে জাতীয় পার্টির অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। সিটি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জাতীয় পার্টি উজ্জীবিত হয়েছে। নেতাকর্মীরা এখন ঐক্যবদ্ধ।’