খেলাধুলা

চার বছর পর নৌবাহিনী

অ্যাথলেটিকসে একচেটিয়া আধিপত্য ছিল সেনাবাহিনীর। সেটা খর্ব করে কাল নৌবাহিনী দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সামার অ্যাথলেটিকসে। তারা জিতেছে ১৫টি সোনা, ১৫টি রুপা ও ১২টি ব্রোঞ্জ। আর ১৩টি সোনা, ১৬টি রুপা ও ১৩টি ব্রোঞ্জ নিয়ে সেনাবাহিনী দ্বিতীয় স্থানে। ৩টি সোনা জিতে তৃতীয় হয়েছে বিকেএসপি।

এর আগেও ২০১৪ সালের সামার মিটে নৌবাহিনী চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। সেটাই ছিল তাদের প্রথম অ্যাথলেটিকস। তার চার বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো তারা অ্যাথলেটিকসে শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে। এর মূলে কিন্তু ২০১২ সালের সংস্কার। নৌবাহিনীর কোচ রফিকুল ইসলাম বিজয় উদযাপন করতে করতে ছয় বছর আগের সেই সময়কে স্মরণ করেছেন, ‘২০১২ সাল থেকে নৌবাহিনী ব্যাপকভাবে খেলাধুলায় আসে। অনেক নতুন অ্যাথলেট যোগ হয়, প্রথমবারের মতো মহিলা অ্যাথলেটদের রিক্রুটও শুরু হয়। আসলে খেলাধুলার পেছনে নৌবাহিনীর অনেক বিনিয়োগ, তারই ফল পেয়েছি আমরা অ্যাথলেটিকসে। ২০১৪ সালের সামার অ্যাথলেটিকসে প্রথম চ্যাম্পিয়ন হই আমরা তারপর এবার।’ সামার অ্যাথলেটিকসের প্রথম দিন শেষেও তারা একটি স্বর্ণপদকে পিছিয়ে ছিল। ৫টি স্বর্ণ, ৪টি রুপা ও ৯টি ব্রোঞ্জ জিতে এগিয়ে ছিল সেনাবাহিনী। গতকাল ১১টি স্বর্ণপদক জিতে সেনাবাহিনীকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যায় নৌবাহিনী।

গ্রীষ্মকালীন অ্যাথলেটিকসের দ্বিতীয় দিনে ৪ গুণিতক ১০০ রিলেতে সোনাজয়ী নৌবাহিনীর চার অ্যাথলেট (বাঁ থেকে) সাবিহা, সোহাগী, তামান্না ও শিরিন।

শেষ দিনের বড় আকর্ষণ ছিল ২০০ মিটার। পুরুষ বিভাগের নতুন চ্যাম্পিয়ন বিকেএসপির জহির রায়হান। সেনাবাহিনীর শরীফুল ইসলামকে (২২.২০ সেকেন্ড) দ্বিতীয় স্থানে ঠেলে বিকেএসপির এই তরুণ স্প্রিন্টার ২১.৭০ সেকেন্ডে প্রথমবারের মতো কোনো জাতীয় মিটে ২০০ মিটার জিতেছেন। তবে জহিরের পছন্দের ইভেন্ট ৪০০ মিটার, সেটি গত পরশু জিতেছেন ৪৮.১০ সেকেন্ডে। কাল ২০০ মিটারের আগে তিনি ধন্দে পড়ে গিয়েছিলেন, ‘দীর্ঘদিন ইনজুরিতে থাকার কারণে নিজের মধ্যে একটা সংশয় তৈরি হয়েছিল। তবে ইনজুরি থেকে ফেরার পর ভালো ট্রেনিং করেছি, সেটা একটা আশার জায়গা ছিল। শেষ পর্যন্ত জিতেছি, এটাই আনন্দের।’ জিতেছেন এমন দাপটে সেখানে শরীফুল ছিলেন অনেক পেছনে। মনেই হয়নি তিনি ইনজুরি কাটিয়ে ফিরেছেন। বিশ্ব যুব অ্যাথলেটিকসের ৪০০ মিটারে সেমিফাইনালে ওঠা এই অ্যাথলেটের লক্ষ্য এসএ গেমস, ‘আজ ২০০ মিটার জিতলেও আমার খুব পছন্দের ইভেন্ট হলো ৪০০ মিটার। এসএ গেমসে ভালো করার লক্ষ্য তো সবার থাকে, তবে ভালো অনুশীলন ও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা পেলে অবশ্যই ফল ভালো হবে। আমার চেষ্টা থাকবে একটি পদক জেতার।’

তবে মেয়েদের ২০০ মিটারে তুমুল লড়াই হয়েছে কাল। নৌবাহিনীর দুই স্প্রিন্টারের মধ্যে দুর্দান্ত লড়াইয়ের পর দ্রুততম মানবী শিরিন আক্তারকে (২৫.২০ সেকেন্ডে) হারিয়ে সেরার পদক জিতেছেন সোহাগী আক্তার (২৫.১০ সে.)। তৃতীয়বারের মতো জাতীয় মিটে ২০০ মিটারে স্বর্ণজয়ী এই স্প্রিন্টার বলেছেন, ‘শুরুর দিকে ভালোভাবে এগিয়ে থেকেও পরে ক্লান্তির কারণে গতি কমে যায়। নইলে টাইমিংটা আরেকটু ভালো হতো। আসলে আগের দিন ৪০০ মিটার ও ১০০ মিটার করেই খানিকটা ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম।’ আগামী মার্চে নেপালে অনুষ্ঠেয় এসএ গেমসে তার লক্ষ্য হলো ভালো টাইমিং করা, ‘পদক জিততে পারব কি না আমি জানি না। তবে নিজের সেরা টাইমিং করতে চাই ওখানে।’