রাজনীতি

গাজীপুরে সিটি নির্বাচন : ঘরোয়া প্রচারণায় জাহাঙ্গীর ও হাসান সরকার

ফাইল ছবি

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ঘরোয়া প্রচারণায় সোমবার ব্যস্ত সময় পার করেছেন। এ সময় তারা নিজ নিজ বাসভবনে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আসা নেতাকর্মীসহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় করেন। তারা সাংগঠনিক ও নির্বাচনের নানা কৌশল নিয়ে নেতাকর্মীদের দিক নির্দেশনা দেন।

গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মেয়র প্রার্থী মোঃ জাহাঙ্গীর আলম সকালে কাশিমপুর ও গাছা এলাকার চারটি ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এসময় তিনি নেতাকর্মীদের জানান, আগামী ১৮ জুন নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হলে নৌকার পক্ষে প্রতিটি ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট চাইতে হবে। এ জন্য আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। কি ভাবে নৌকার ভোট বৃদ্ধি করা যায় তার চেষ্টা করতে হবে। পরে তিনি গাজীপুরের ৩২টি গার্মেন্টস শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ আগামী নির্বাচনে নৌকার পক্ষে সবাই কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এ সময় মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা মজিবুর রহমান, জাতীয় শ্রমিক লীগের যুগ্ম আহবায়ক মাহফুজুর রহমান মাহফুজ, প্রস্তাবিত গাছা থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক এম এ কাদের, শাজাহান খন্দকার, জুয়েল মোল্লা, সিরাজ মোল্লা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

দুপুরে জাহাঙ্গীর আলম বার কাউন্সিল নির্বাচনে ভোট দিতে গাজীপুর জেলা জজ আদালতে যান। আদালত প্রাঙ্গণে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খানকে সঙ্গে নিয়ে তিনি বার কাউন্সিল নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সমর্থিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ মনোনীত প্যানেলের পক্ষে প্রচারণা চালান। এসময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক, গাজীপুর আদালতের জিপি আমজাদ হোসেন বাবুল, পিপি হারিছ উদ্দিন আহমদ, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাড. আমানত হোসেন খান, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহজাহানসহ আইনজীবী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বিকালে গাজীপুর মহানগরের ৫৩নং ওয়ার্ডে আলমাছ ভেন্ডারের বড় দেওড়ার বাসায় একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল ও মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম। এতে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সিনিয়র সহসভাপতি নুর মোহাম্মদ মামুন, কেন্দ্রীয় দপ্তর উপ কমিটির সহ সম্পাদক মোস্তফা কামাল হুমায়ুন হিমু, টঙ্গী ভেন্ডার কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম, ৫৩নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক সেলিম মিয়া উপস্থিত ছিলেন। এসময় জাহাঙ্গীর আলম নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে কেন্দ্র ভিত্তিক ভোটারদের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষার আহবান জানান। বিরোধী পক্ষের সকল ষড়যন্ত্র জনগণই প্রতিহত করবে বলেও তিনি মনে করেন। কোন অপপ্রচারে বা প্রপাগান্ডায় বিভ্রান্ত না হয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থেকে ২৬ জুনের নির্বাচনের প্রস্ততি নিতে তিনি তার কর্মী সমর্থক ও শুভান্যুধায়ীদের অনুরোধ করেন।

এদিকে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার সোমবার সকালে টঙ্গীর আউচপাড়ায় তার বাসভবনে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আসা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। ১৮ জুন প্রচারণা শুরু হলে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে ধানের শীষের পক্ষে ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট চাওয়ার অনুরোধ করেন। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনের জন্য এ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সকলকে ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থেকে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে এগিয়ে যেতে হবে।

দুপুরে হাসান উদ্দিন সরকার নির্বাচন কমিশনের কাছে তিনটি লিখিত অভিযোগ করেন। এ গুলো হচ্ছে-  ধর্মীয় উপাসনালয় মসজিদে ভোট চাওয়া ও নগদ অনুদান দেওয়া। মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তি, পুলিশের গণগ্রেফতার ও হয়রানি বন্ধের আবেদন এবং অনভিপ্রেত গোলযোগ ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণ দ্বারা শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গের মাধ্যমে নির্বাচনী পরিবেশ বানচাল করার অপচেষ্টা প্রসঙ্গে।

অভিযোগে হাসান উদ্দিন সরকার বলেন, গাজীপুর সিটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী ও তার সমর্থকেরা একের পর এক আচরণবিধি লঙ্ঘন করে নির্বাচনের বহু আকাঙ্খিত ‘লেভের প্লেয়িং ফিল্ড’ বিনষ্ট করছেন। গত ১১ মে মেয়রপ্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম টঙ্গী সরকারি কলেজ জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতে এসে মুসল্লিদের কাছে প্রকাশ্যে ভোট চান এবং উক্ত মসজিদে নগদ ২০ হাজার টাকার অনুদান দেন। অপরদিকে বর্তমানে নির্বাচনী প্রচারণা নিষিদ্ধ থাকলেও সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়ে মাইকিং এবং প্রচারণামূলক গান বাজনার আয়োজন করা হচ্ছে।

সূত্র- ইত্তেফাক