আইন আদালত

খালেদা জিয়ার জামিনের ব্যাপারে নমনীয় থাকবে সরকার!

সর্বোচ্চ ছাড় দিয়ে হলেও এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অংশ গ্রহণ চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এ কারণে দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিনের ব্যাপারে সরকারের মাধ্যমে বিরোধিতার কৌশলে যাবে না ক্ষমতাসীন দলটি। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন ‘রাজনৈতিক মামলা’র কার্যক্রমেও ‘ধীরে চল নীতি’ অনুসরণ এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কর্মসূচি নির্বিঘ্ন করার বিষয়ও বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের অংশগ্রহণের নিশ্চয়তা পেলেই বিষয়গুলো দৃশ্যমান হবে বলে জানিয়েছে আ. লীগের নীতি-নির্ধারণী সূত্র।

বুধবার সরকারের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সংলাপের সময় নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ সৃষ্টির লক্ষ্যে খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রসঙ্গটি লিখিত বক্তব্যে তুলে ধরেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেন। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আদালত নিজস্ব গতিতে চলবে। আর সরকার তো এখানে কেউ না। তবে যদি আমাদের কিছু করণীয় থাকে, আমরা দেখব।

ওই সংলাপে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ১ সেপ্টেম্বরের পর কোনও সংঘাত-সহিংসতা হয়নি। এরপর যেসব মামলা হয়েছে, সেগুলো গায়েবি ও ভুয়া মামলা। পরে প্রধানমন্ত্রী তালিকা চাইলে তা দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তালিকাটি আইনমন্ত্রীকে দিয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেন।

গত রবিবার প্রথম দিনের সংলাপে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে ৪টি দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হয়। এগুলো হলো- সংসদ ভেঙে দিয়ে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন; ১১ সদস্যের নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকার গঠন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন এবং কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি। সাংবিধানিক ও আইনি যুক্তি দেখিয়ে নাকচ দিলেও রাজনৈতিক সমঝোতায় বেশ কয়েকটি প্রস্তাবে একমত হতে আপত্তি করছে না আ. লীগ। এর মধ্যে খালেদা জিয়ার জামিন অন্যতম।

বুধবারের সংলাপে বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা নির্বাচনে আশার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে ক্ষমতাসীন দলের একাধিক নেতা নিশ্চিত করেছেন। তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যেতে আগ্রহী। এজন্য দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে আশ্বস্ত হতে চান।

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়ার জামিন বিষয়ে নানা হিসাব-নিকাশ আছে। জামিনে বেরিয়ে নির্বাচনী মাঠে বেগম জিয়ার উপস্থিতি ভোটারদের মধ্যে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে সেটি নিয়েও দলীয় ফোরামে আলোচনা হচ্ছে। যদি খালেদা জিয়া জামিন পান, সেক্ষেত্রে তার নির্বাচনী সভা-সমাবেশ ‘সুপার ফ্লপ’ করতে দুর্নীতির নানা তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে মাঠে-ঘাটে প্রচারণায় সরব থাকতে চায় ক্ষমতাসীনরা।

আ. লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপিকে নির্বাচনমুখী করতে প্রধানমন্ত্রী তাদের অনেক দাবিই মেনে নিয়েছেন। রাজনীতিকভাবে আরও কোনো দাবি থাকলে তা আলোচনা হতে পারে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে দলটি বেশি জোর দিচ্ছে। বিএনপির নির্বাচনে আসার নিশ্চয়তার ওপর অনেক কিছুই নির্ভর করছে।