লাইফস্টাইল

কোন পদ্ধতিতে ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতি নেওয়া উচিত ?

ভুবন বাংলা ডেস্ক : আপনার বাসা থেকে ইন্টারভিউয়ের জন্য বের হওয়ার আগে অনেক কিছুই ভাবনায় থাকা দরকার। বিশেষ করে সময়মত পৌঁছানোটাই বড় চ্যালেঞ্জ। ইন্টারভিউয়ে যথাসময়ে থাকা আপনার সময়ানুবর্তিতার পরীক্ষা।

চাকরির ইন্টারভিউ বোর্ডে যে সকল বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখা দরকার।

১• অনুমতি নিয়ে কক্ষে প্রবেশ করে সালাম জানাতে হবে। পরীক্ষকগন বসতে বললে বসতে হবে এবং বসতে না বললে একটু অপেক্ষা করে অনুমতি নিয়ে বসতে হবে। অনুমতি ব্যতিত বসা যাবে না। বসার সঙ্গে সঙ্গে ধন্যবাদ জানাতে হবে। সোজা হয়ে বসুন, পায়ের উপর পা তুলে অথবা পা দুটো আড়াআড়ি করে বসা যাবে না। হাত দুটো টেবিলের উপরে রাখা যাবে না। ভাইভা যারা নিবেন তাদের দিকে সোজাসুজি তাকান, মাটির দিকে বা ঘরের কোণ বা ছাদের দিকে তাকাবেন না।

২• নিজেকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করুন। আত্নবিশ্বাসের সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করুন।

৩• একজন প্রশ্নকর্তার প্রশ্নের উত্তর দেয়ার সময় অন্যদের দিকে তাকাতেও ভূলবেন না। অতি সুকৌশলে নিজের বুদ্ধিমত্তা এবং উত্তম গুনাবলী ও জ্ঞানের পরিধি সম্পর্কে পরীক্ষকগনকে ধারনা প্রদানের চেষ্টা করুন।

৪• মনোযোগ দিয়ে প্রথমে প্রশ্নটি শুনুন ও বোঝার চেষ্টা করুন। প্রথমবারে যদি প্রশ্নটি বুঝতে না পারেন তবে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে আর একবার প্রশ্নটি করতে বলুন।

৫• উত্তর দেয়ার সময় প্রত্যেকটি শব্দ স্পষ্ট করে এমনভাবে উচ্চারন করুন যেন সবাই শুনতে পায় এবং খেয়াল রাখুন উত্তরের সাথে যেন আপনার আত্মবিশ্বাস প্রতিফলিত হয়। সময় নষ্ট না করে উত্তর দিন। জানা না থাকলে কালক্ষেপন না করে দ্রুত বলুন, দুঃখিত আমার জানা নেই। অগোছালো ভাবে এদিক সেদিক না ঘুরিয়ে যথাযথ উত্তর দিতে হবে। যুক্তির সাথে বক্তব্যকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

৬•আচরনে কোন প্রকার জড়তা রাখা যাবে না। গোমরা মুখে থাকবেন না। নিজেকে হাসি হাসি মুখ করে রাখুন। ভাইভা যারা নিচ্ছেন তাদের সঙ্গে ভুলেও (যদি ঐ প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার ইচ্ছা থাকে) তর্কে জড়িয়ে পড়বেন না। নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধ মত জানানোর আগে বিনয়ের সাথে বলবেন- মাফ করবেন বা কিছু মনে করবেন না বলে নিন। কর্কশভাবে প্রশ্নের উত্তর দেয়া বাঞ্চনীয় নয়। উঁচু গলায় প্রশ্ন এলেও উচু গলায় উত্তর দেয়া যাবে না। স্বাভাবিক স্বরে উত্তর দিন।

৭• মুদ্রাদোষ গুলো সম্পর্কে অত্যন্ত সচেতন থাকুন। গোঁফে হাত বুলানো, চুল ঠিক করা, নাক চুলকানো, টাই ঠিক করা, গলা দিয়ে শব্দ করা বা জামা কাপড় ঠিক করবেন না। নিজে নিজে হ্যান্ডশেক করার জন্য আগে হাত বাড়াবেন না। নিয়োগকর্তাগন যদি করমর্দনের জন্য হাত বাড়ান তাহলে মোলায়েম ভাবে করর্মদন করুন।

৮• আবেগ তাড়িত হয়ে কোন প্রশ্নের উত্তর দেয়া যাবে না। উত্তর দেয়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন কোন ব্যক্তি, সমষ্টি, জাতি, ধর্ম বা রাষ্ট্র সম্পর্কে কোন প্রকার অবমাননাকর বা অপ্রীতিকর কথা বেয়িয়ে না যায়।

৯• যে কোন বিষয়ে কোন অজুহাত না দেখিয়ে এবং কোন তথ্য সম্পর্কে ছলনার আশ্র্রয় না নিয়ে সততার পরিচয় দিন।

১০• নিজেকে উপস্থাপন করুন আকর্ষণীয়ভাবে। যেমনটি কোন পণ্যের দক্ষ বিক্রেতা করে থাকেন।

প্রতিষ্ঠানের ফোন নম্বরঃ এই বিপদ থেকে উদ্ধারের উপায় হতে পারে কম্পানির একটা ফোন নম্বর। যেকোনো সমস্যায় জরুরি ভিত্তিতে কথা বলে নিন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। আপনার পৌঁছতে বিলম্ব হওয়ার কারণ বলে রাখুন। এতে করে আপনার দায়িত্বশীলতার পরিচয় ফুটে উঠবে।

প্রশ্নসহ নোটবুকঃ ইন্টারভিউ মানেই প্রশ্নকর্তাদের প্রশ্নের বাণ নয়। সেখানে আপনাকেও প্রশ্ন করার সুযোগ দেওয়া হবে। কিংবা আপনিও কিছু জানতে চান, তা উত্থাপন করতে হবে। এর জন্য কিছু প্রশ্ন নোটবুকে টুকে নিয়ে যান। ওখানে বসে হয়তো মাথায় রাখা প্রশ্নগুলো ভুলেও যেতে পারেন। তা ছাড়া এ ক্ষেত্রে আপনার আগাম প্রস্তুতি থাকাটাও প্রশ্নকর্তারা ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখবেন। এটা আপনার উৎসাহ-উদ্দীপনা আর আগ্রহের লক্ষণও প্রকাশ করে।

একটি কলমঃ বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে কাজ করে এমন একটা ভালো মানের কলম অবশ্যই সঙ্গে রাখবেন। নগণ্য কোনো বিষয় মনে হতে পারে। এত ছোট বিষয় যে ভুলেও যেতে পারেন। কিন্তু একে গুরুত্বের সঙ্গে নিন। ইন্টারভিউয়ে এমন পরিস্থিতি আসতে পারে যখন আপনাকে জরুরি কিছু নোট করে নিতে হবে। তখন কলম না বের করতে পারলে বিষয়টি ভালো চোখে দেখবেন না প্রশ্নকর্তারা।  আসলে, ইন্টারভিউয়ের জন্য প্রথম দরকার মেধা ও টেকনিক। এই দুইয়ের সম্ময়ে ভালো কিছু আশা করা যায়। তাছাড়া, ইন্টারভিউয়ের সমায় নিয়োগকর্তা কিছু জিনিস লক্ষ্য করেন। যেমনঃ

 

  • নিয়োগকর্তা কি কি গুণ আপনার মধ্যে খুঁজে পাবেন।
  • গুন ও মূল্যগত দিক দিয়ে প্রার্থী হিসেবে আপনি কেন অন্যদের থেকে আলাদা এবং আপনাকে নিলে নিয়োগকর্তা কিভাবে লাভবান হবেন।
  • প্রতিষ্ঠানের উন্নতির জন্য আপনি কতটা অপরিহার্য হয়ে উঠতে পারেন।
  •  আপনার উল্লেখ করার মতো কোন সাফল্যের বিষয় থাকলে বিনয়ের সাথে বলুন।পরিশেষে বিদায় নেবার সময় সবাইকে ধন্যবাদ দেয়ার পর, সালাম দিয়ে বিদায় নিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here