লাইফস্টাইল

কোঁকড়া চুলের দেখভাল

হেয়ার কাট

কোঁকড়া চুলের ক্ষেত্রে প্রথমে ভাবার মতো বিষয় হলো হেয়ার কাট। হেয়ার কাট হওয়া চাই মুখের সঙ্গে মানানসই। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কোঁকড়া চুল সহজে বড় হতে চায় না। মাঝারি চুলের জন্য যেকোনো লেয়ার কাট ও ছোট রাখতে চাইলে বব কাট দিতে পারেন। অ্যাঙ্গেল বব এখন বেশ জনপ্রিয়। এই কাটে পেছনের ঘাড়সমান চুল কানের দুই পাশে এসে একটু বড় হয়। একটু সরু লম্বাটে ধাঁচের ঘাড়ে অ্যাঙ্গেল বব বেশ মানায়। মাঝারি থেকে বড় চুলে লেয়ার বা স্টেপ কাটের যেকোনো হেয়ার কাট বেছে নিতে পারেন। এতে চুলের আগায় বেশ একটা ঢেউ খেলানো ভাব পাওয়া যাবে।

হেয়ার স্টাইল

কোঁকড়া চুল স্বভাবতই একটু অবাধ্য। অবশ্য ভালো দিকও আছে। স্বমহিমায় উজ্জ্বল এই চুল। হেয়ার স্টাইলের জন্য আলাদা করে তেমন মনোযোগ না দিলেও চলে কিংবা উত্সব উপলক্ষে অল্প সময়ে সহজেই মিলে যায় ব্যতিক্রমী চুলের সাজ। ঝটপট হেয়ার স্টাইল চাইলে কার্লি চুল ছেড়ে রাখুন। আর আরাম চাইলে শক্ত করে একটা পনিটেল বেঁধে নেওয়া যেতে পারে। বড় চুলে এলোমেলো হাত খোঁপা বা যেকোনো বেণিতেও ভালো দেখাবে। কোঁকড়া চুল এলোমেলো হয়ে যায় সহজেই। বশে রাখতে ব্যবহার করতে পারেন হেয়ার জেল। ভেজা চুলে অল্প পরিমাণে সফট জেল মেখে নিন। চুল দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ঠিকঠাক থাকবে।

যত্ন-আত্তি

কোঁকড়া চুলের সাধারণ সমস্যা জট। জট লেগে গেলে বড় দাঁতের চিরুনি দিয়ে চুলের আগা থেকে জট ছাড়াতে শুরু করুন। জট বেশি হলে আগে তেল বা এলোভেরা জেল লাগিয়ে নিলে সহজ হবে। সিল্কের বালিশের কভার কার্লি চুলের জন্য উপকারী। এতে চুলে জট কম লাগবে। চুল নরম রাখতে সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন স্কাল্পে হট অয়েল ম্যাসাজ করতে হবে। ম্যাসাজের পর গরম পানিতে তোয়ালে ভিজিয়ে মাথায় পেঁচিয়ে রাখুন ১০ মিনিট। এতে চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত পৌঁছে যাবে তেলের পরিপূর্ণ পুষ্টি। এর পর শ্যাম্পু করুন। প্রোটিনযুক্ত শ্যাম্পু কোঁকড়া চুলের জন্য উপযোগী। শ্যাম্পুর পর অবশ্যই কন্ডিশনার লাগাতে ভুলবেন না। কন্ডিশনার চুলের সঠিক আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করবে। দিনভর চুল থাকবে নরম ও সতেজ। কার্লি চুলের গোড়ায় সহজে বাতাস পৌঁছতে পারে না। ফলে স্কাল্পে ঘাম জমে ফুসকুড়ি, ব্রণ, খুশকিসহ নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। দিনে দুবার মোটা দাঁতের চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়াতে হবে। সব চুলকে কয়েক ভাগ করে তারপর আঁচড়ে আঁচড়ে চুলের গোড়ায় বাতাস পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে। ঘেমে গেলে ফ্যানের ঠাণ্ডা বাতাসে চুলের গোড়ায় আঙুলের সাহায্যে ফাঁক করে চুল শুকিয়ে নেওয়া নিরাপদ। কোঁকড়া চুল এমনিতেই রুক্ষ প্রকৃতির হয় বলে হেয়ার ড্রায়ার আরো ক্ষতিকর। গরম পানি কোঁকড়া চুলকে আরো রুক্ষ করে দেয়। তাই গোসলেও স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করতে হবে।