জাতীয়

কেন এই অসুস্থ প্রতিযোগিতা?

কে কাকে টেক্কা দিতে পারে এই নিয়ে যেন রাজধানীর বাসগুলোর মধ্যে এক গোপন প্রতিযোগিতা। আর এই প্রতিযোগিতার কবলে পড়ে প্রতিনিয়ত প্রাণ হারাচ্ছে সাধারণ মানুষ। কেন এই অসুস্থ প্রতিযোগিতা?

পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিরা জানাচ্ছেন, বেতনভুক্ত চালক দিয়ে লোকাল (বাস) গাড়ি চালালে মালিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে নগরীর অধিকাংশ পরিবহন মালিক তাদের বাস মিনিবাস চালককে চুক্তিতে চালাতে দিচ্ছে। চুক্তির কারণেই চালকরা বেপরোয়া। কারণ একই রুটের যে বাস আগে শেষ গন্তব্যে পৌঁছাবে সেই ফিরতি ট্রিপের সিরিয়াল পাবে আগে। এ কারণে একই রুটের বাসের মধ্যেই ভয়াবহ মরণ রেস দেখা যায়। আর এ প্রতিযোগিতার কারণেই এ রেসের পরিণতি হয় দুর্ঘটনা।

পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, চালকরা যখন বাস চালায় তখন সামনে ছোট গাড়িগুলোকে পরোয়া করে না। এটা এক ধরনের বাজে অভ্যাসে পরিণত হয়েছে তাদের। সেই সঙ্গে যে গতিতে তাদের গাড়ি চালানোর কথা সেই গতিতে তারা গাড়ি চালায় না। আর এই বেপরোয়া মনোভাবের কারণেই দুর্ঘটনা বাড়ছে।

গণমাধ্যমের সূত্র অনুযায়ী ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চালকদের নিয়মের মধ্যে আনার ক্ষেত্রে অনেক সমস্যা রয়েছে যা পুলিশের একার পক্ষে সম্ভব না। এ জন্য পরিবহন মালিক, শ্রমিকদের পাশাপাশি যাত্রীদের সচেতন হতে হবে। প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়, রাজধানীর ২৭৯টি রুটে যাত্রীবাহী বাস মিনিবাসের সংখ্যা প্রায় ৬ হাজার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রবীণ পরিবহন শ্রমিক নেতা বলেন, নগরীর পরিবহন সেক্টরে নানা সমস্যা রয়েছে। নগরীর কোন রুটে কোন কোন পরিবহনের বাস চলাচল করবে তা নিয়ে প্রতিযোগিতা চলছে। এর পেছনে রয়েছে অনেক ‘ক্ষমতাধর’ ব্যক্তি। তাদের নির্দেশেই রুট নিয়ন্ত্রিত হয়। ফলে ক্ষমতার কারণে অনেক সময় শ্রমিক মালিক নেতৃবৃন্দের কিছু করার থাকে না।

বাসের এই প্রতিযোগিতার কারণে শুধু রাজধানীতেই গত তিন বছরে অসংখ্য মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সেই ঘটনা গণমাধ্যমের শিরোনামে এসেছে। নানা কথা হয়েছে। আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু এই অসুস্থ প্রতিযোগিতা থামেনি।