রাজনীতি

ঐক্যফ্রন্টের জন্য পুন:তফসিলের অপেক্ষায়!

ভুবনবাংলা২৪ঃ বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নির্বাচনী তফসিল, পুন:তফসিলের পথেই হাটতে হবে নির্বাচন কমিশনকে? যেদিন প্রধান নির্বাচন কমিশন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছিলেন, সেদিনই তফসিল সংশোধন এবং ভোটের তারিখ নতুন করে নির্ধারণের আভাষ দিয়েছিলাম। রবিবার সংবাদ সম্মেলন করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে যোগ দেয়ার পক্ষে ইতিবাচক মত দিয়ে  ‘নির্বাচনের তফসিল একমাস পেছানোর দাবি জানিয়েছে ।‘  ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পড়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সময় ২০ দলীয় জোটও আলাদা সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচনে যোগ দেয়ার  ঘোষণা দিয়েছে।

এখন ধরেই নেয়া যায় যে নির্বাচন কমিশন হয়তো অচিরেই তাদের ঘোষিত তফসিল সংশোধন করবে। তফসিল ঘোষণার পরপরই এই কলামেই লিখেছিলাম  ‘যদি সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করে সকল পক্ষ, যদি কোনো দল বা জোট পুন:তফসিলের দাবি জানায় নির্বাচন কমিশন তা বিবেচনায় নিতে পারে।‘ দেশের রাজনীতিতে এখন হেমন্তের দারুণ আবহাওয়ার মত সুন্দর পরিবেশ। নির্বাচনে যাবার হ্যাঁ সূচক কথা বলার পর পরই বিএনপির নেতারা ছুটে গেছেন নির্বাচন কমিশন, মাত্র তিনদিনের মধ্যে যে ব্যাপারে বক্তব্য চেয়েছিল কমিশন সেই ব্যাপারে নিজেদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব। মীর্জা ফখরুল ইসলাম জানিয়েছে ৮টি দল ধানের শীষের প্রতীকে ভোট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিএনপি ছাড়া অন্য ৬টি দল হচ্ছে এলডিপি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি, খেলাফত মজলিস, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, মুসলিম লীগ ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ।

যদিও ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনের তফসিল এক মাস পেছানোর দাবি জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী ও ১৪ দলীয় জোটের সাথে ফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপে আগের সাত দফা মানা হয়নি বলে অভিযোগ করে রবিবার আরও একটি দফা যোগ করা হলো। আর সেটি হচ্ছে নির্বাচনী তফসিল পেছানো। আর এতে আপত্তি নেই বলে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন এটা কমিশনের বিষয়, তবে তফসিল সংশোধন হবে কিনা সেই সিদ্ধান্ত নিবে নির্বাচন কমিশন।

প্রশ্ন উঠতেই পারে তাহলে কি বিএনপি বা ঐক্যফ্রন্টের কাছে এখন তফসিল সংশোধনই মূল, বিএনপির চেয়ারপারসনের মুক্তি বা জামিন কি একটু গৌণ হয়ে গেলো না? কারণ তফসিল পেছানোর  দাবি  জানালেও ঐক্যফ্রন্ট কিন্তু তিনদিনের মধ্যে প্রতীক সম্পর্কে কমিশনের চিঠির জবাব দিয়ে দিল। এমনকি আ স ম আব্দুর রবের জেএসডিও চিঠি দিয়ে জানিয়েছে যে তারা  ‘ধানের শীষ’ প্রতিকে ভোট করবে। তার মানে নির্বাচন কমিশন তিনদিনের যে সময় সীমা দিয়েছিল, তা মেনে নিয়েছে সবাই। তাহলে কমিশন ঘোষিত তফসিল সংশোধনের দরকার কি ?

কিন্তু এটাও ঠিক যে আমরা দেখেছি প্রধানমন্ত্রীর সাথে সংলাপে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে দেয়া সাত দফার ( যা বিএনপির আগের দাবির হুবহু ) মূল দাবিই গুলি মানতে রাজী নয় সরকারপক্ষ। রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে আলোচনা ছিল যে দুপক্ষের সমঝোতার জন্য প্রধানমন্ত্রী ঐক্যফ্রন্টের দাবি অনুযায়ী সংসদ ভেঙ্গে দিতে পারেন । কিন্তু রবিবার যেভাবে ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোট নির্বাচনে অংশ নেয়ার পক্ষে ঘোষণা দিল তাতে এখন প্রধানমন্ত্রীকে সংসদ ভেঙ্গে দেয়ার দাবি মানার কোনো চাপ থাকলো বলেই মনে হয়। আর বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়ার জামিন বা মুক্তির দাবিটিও তো আর জোরালো ভাবে উত্থাপন বা নির্বাচনে অংশ নেয়ার শক্ত শর্ত থাকছে কি ?

২০১৮ সালের ১১ নভেম্বর দিনটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি মাইলফলক তারিখ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে । কারন যদি শেষ পর্যন্ত সকল দলের অংশগ্রহণে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তাহলে এই দিনটিই হবে ইতিবাচক টার্নিং পয়েন্ট। কারণ গত অক্টোবরের ১১ তারিখেও দেশের রাজনীতি এতটা স্বস্তি বা ইতিবাচক ছিল না। কামাল হোসেন যখন সংলাপ চেয়ে চিঠি দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রীকে তখন কেউ ভাবেনি যে প্রধানমন্ত্রী এত দ্রুত সেই চিঠির ইতিবাচক জবাব দিবেন। খালেদা জিয়ার সাজার মেয়াদ দ্বিগুণ আর হাসপাতাল থেকে কারাগারে ফিরে যাওয়ার মধ্যেই বিএনপির নেতারা এই প্রথমবারের মত এক সপ্তাহেই দুদফা গণভবনে যাবেন, সেটা অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকই অনুমান করতে পারেননি।

এই লেখা যখন শেষের পথে তখনই খবর পেলাম নির্বাচন কমিশনই চিঠি দিয়েছে বিকল্পধারার নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টকে (যে ফ্রন্টে ছিলেন ড. কামাল হোসেন ও নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্নাও)।  যুক্তফ্রন্ট দাবি করেছে ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন সাত দিনের জন্য পিছিয়ে দিতে। এখন আমাদের চোখ থাকবে নির্বাচন কমিশনের দিকে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট তথা সরকার বিরোধী প্রধান রাজনৈতিক জোটের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন তাদের দাবি মানবে কি না সেটাই এখন বড় প্রশ্ন? নাকি তারা মানবে বিকল্পধারার প্রস্তাব। আর হ্যাঁ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনে যোগ দেয়ার ঘোষণাকে তাৎক্ষণিক ভাবেই স্বাগত জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেখা যাক এবার নির্বাচন এক মাসের জন্য পিছিয়ে দেবার ঘোষণা দিয়ে একে আন্দোলনের অংশ বলেই বলছেন বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। যদিও আন্দোলনের নতুন কর্মসূচী ‘পদযাত্রা’ কবে হবে তা পরে জানানোর কথাও বলছেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা । সুত্রঃ বাংলা ইনসাইডার