খেলাধুলা

এমবাপ্পে-মডরিচসহ বিশ্বকাপের সেরা একাদশে আছেন যারা

ফরাসী সৌরভে শেষ হয়েছে রাশিয়া বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপ উত্তেজনা শেষ কিন্তু রেশ এখনো কাটেনি। ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে পরাজিত করার মধ্যদিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন  ফ্রান্স। পাওয়া গেছে বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়, সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সেরা উদীয়মান তারকা। তারপরও সমর্থকদের জানা আজানার কমতি থাকে না।

একটা প্রশ্ন থেকেই যায় এবারের বিশ্বকাপের সেরা একাদশে জায়গা পেল কারা? কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, বিশ্বকাপের সেরা একাদশে নেই মেসি, রোনালদো, নেইমার, মোহাম্মদ সালাহদের মতো বিশ্বসেরা তারকারা। বিশ্বমঞ্চে যারা আলো ছড়িয়ে দলকে সেরাটা দিয়েছেন তারাই আছেন সেরা একাদশে।

গোলকিপার

পিকফোর্ড

গোল্ডেন গ্লাভস বেলজিয়ামের থিবো কোর্তোয়া পেলেও বিশ্বকাপের সেরা একাদশে রাখা হয়েছে ইংল্যান্ডের জর্ডান পিকফোর্ডকে। এভারটনের এই গোলরক্ষক কলম্বিয়া, সুইডেন, ক্রোয়েশিয়া ও বেলজিয়ামের বিপক্ষে অসাধারণ কিছু সেভ করে নজর কেড়েছেন।

ইংলিশ দেয়াল।

ডিফেন্ডার

রাফায়েল ভারান-ফরাসী সেন্টারব্যাক রাফায়েল ভারান বর্তমান সময়ে বিশ্বের সেরা ডিফেন্ডারদের একজন। ২০১১ সাল থেকে রিয়ালে খেলা ভারান রক্ষণে আরেকবার দুর্গ হয়ে ছিলেন ফাইনালে। ক্রসনির্ভর ক্রোয়াটদের ফিরিয়ে দিয়েছেন একাই। পাসিংইয়েও ছিলেন দারুণ।

দোমাগয় ভিদা- বেশ অপরিচিত নাম হলেও বিশ্বকাপে আলো ছড়িয়েছেন।

ভিদার বুনো উদযাপন।

ডিয়াগো গোডিন- উরুগুয়ের এই ডিফেন্ডার অভিজ্ঞতা দিয়ে দলকে নিয়ে গেছেন কোয়ার্টার ফাইনালে। প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়ার পিছনে বড় ভূমিকা ছিল তার।

কোয়ার্টারে শেষ হয়েছিল তার যাত্রা।

মিডফিল্ডার

কেভিন ডি ব্রুনাই- বর্তমান সময়ের সেরা উদীয়মান মিডফিল্ডার। সৃজনশীল এই মধ্যমাঠের কারিগর ব্রাজিলের বিপক্ষে দুর্দান্ত গোল করে দলকে দ্বিতীয়বারের মতো সেমিতে তুলেন।

বেলজিয়ামের সেরা মিডফিল্ডার।

লুকা মডরিচ-তার সমন্ধে নতুন করে কিছু বলার নেই। গোটা বিশ্বকাপ জুড়েই আলোচনায় তিনি। বলা চলে ক্রোয়েশিয়ার ‘ওয়ান ম্যান আর্মি’। হয়েছেন বিশ্বকাপের সেরা খেলায়াড়। ফাইনালেও ছিলেন দুর্দান্ত। মাঝমাঠে যেভাবে সাহায্য করেছেন, নিচে নেমে রক্ষণভাগকেও সাহায্য করেছেন বেশ। সেটপিস ডেলিভারিও ছিল চমৎকার। পাসিং ছিল একেবারেই নিখুঁত।

এনগোলা কান্তে- আসরে নব্বই শতাংশের উপরে সফল পাস দিয়েছেন ফরাসী এই মিডফিল্ডার। ফাইনাল পর্যন্ত প্রত্যকটি ম্যাচে তিনি পুরো ম্যাচ খেললেও ফাইনালে দ্বিতীয়ার্ধে তাকে তুলে নেওয়া হয়। তবুও ধরা হয় ফরসীদের সেরা খেলোয়ার তিনিই। কান্তে নেই কোথায়! ‘আক্রমণ তৈরীতে, আক্রমণ ঠেকাতে।’ এখানেই কান্তে সবার চেয়ে আলাদা।

ফরাসী অলরাউন্ডার।

ফরোয়ার্ড

ইভান পেরিশিচ- ক্রোয়েশিয়ার আক্রমণ ভাগের সেরা তারকা। তার গোল ও অ্যাসিস্টে সেমিতে পিছিয়ে পরেও ইংল্যান্ডকে হারায় ক্রোয়েশিয়া। ফাইনালেও গোল পেয়েছেন পেরিসিচ।

ক্রোয়েটদের নায়ক ও ভিলেন।

কিলিয়ান এমবাপ্পে- ১৯ বছরেই ফ্রান্সর নাম্বার টেন। গতি আর ড্রিবলিং দিয়ে নেজর কেড়েছেন সবার। পেলের পরে দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে সবচেয়ে কম বয়সে বিশ্বকাপের ফাইনালে গোল করেন। তার গতির কাছেই হেরেছে আর্জেন্টিনা। পেয়েছেন সেরা উদীয়মান ফুটবলারের পুরস্কার। রাশিয়া বিশ্বকাপের সেরা আবিষ্কার বলা হয় এমবাপ্পেকে।

ইডেন হ্যাজার্ড- জাতীয় দলে নাম্বার টেন বিশ্বকাপেও নাম্বার টেন রাখা হয়েছে তাকে। বেলজিয়ামে সেরা স্ট্রাইকার। সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে শিরোপার খুব কাছে গিয়েও ফ্রান্সের সাথে হোচট খেয়ে বিদায় নেয় হ্যাজার্ডের বেলজিয়াম। চেলসির এই ফরোয়োর্ডকে ইতোমধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান স্ট্রাইকারদের একজন ধরা হয়। গুঞ্জণ উঠেছে রোনালদোর শূণ্যতা পূরণ করতে নাকি রিয়ালে যোগ দিচ্ছেন তিনি।

আঁতোয়ান গ্রিজমান- ফ্রান্সের প্লে-মেকার। দলের সেরা তারকা। ২০১৬ সালে ইউরোকাপের ফাইনাল খেলেও শিরোপা ছুতে পারেননি গ্রিজমান। তবে রাশিয়ায় আর ভুল করেননি তিনি। ফাইনালে পেনাল্টি থেকে গোল করেছেন। দলকে বিশ্বকাপ জিতিয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন।

প্রত্যাশার পুরোটাই দিয়েছেন তিনি।