খেলাধুলা

এভাবে আর কত দিন!

শেষ বলের পর ক্যারিবীয়দের বুনো উল্লাসের ফাঁকে এক ঝলক তাঁকে দেখা গেল হতাশায় মাথা নিচু করে বসে। এরপর আর দেখা নেই, এলেন না ব্যক্তিগত পুরস্কার নিতেও। মুশফিকুর রহিমের হয়ে পুরস্কার গ্রহণ করে মাশরাফি বিন মর্তুজা পাল্টা প্রশ্ন করেন বাংলাদেশ থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজে যাওয়া সংবাদকর্মীদের, ‘এভাবে আর কত দিন, বলেন তো?’

শেষ ওভারের অঙ্ক বরাবরই কিছুটা কঠিন, সে ৬ বলে ৮ রানের হলেও। সে তুলনায় ১৩ বলে ১৪ রানের হিসাবটা সহজতর। কিন্তু ৭ নম্বর বলটা ফুলটস পেয়েও ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়েছেন সাব্বির রহমান। অথচ যতই লোভনীয় বল হোক না কেন, বলপিছু রান তোলার পরিস্থিতিতে বাউন্ডারির পিছু না নিলেই পেশাদারিত্বের উদাহরণ হয়ে থাকতে পারতেন সাব্বির। এর পরও মুশফিকের সামনে জয়ের দরজা হাঁ করেই খোলা ছিল। কিন্তু সে দরজা চিরতরে বন্ধ হয়েছে তাঁর ব্যাটেই, যা দেখে যেন বিশ্বাসই হচ্ছে না মাশরাফির, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে আমরা ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। আর কোনো কারণ তো দেখছি না। প্যানিকড হয়ে গিয়েছিলাম। ভয় থেকেই এমনটা হয়েছে। তবে একই ভুল বারবার হচ্ছে। এটা থেকে আমাদের দ্রুত শিখতে হবে। ভয় থেকেই আমাদের উইকেট পড়ছে, রানের গতি কমছে। ভয় তাড়াতে গিয়েই হয়তো ব্যাটসম্যান অযথা বড় শট খেলার ঝুঁকি নিচ্ছে। তাতে উইকেট পড়লে নতুন ব্যাটসম্যান কিছু সময় নিচ্ছে উইকেট বুঝতে। সে কারণে ডট বলও দিচ্ছে ক্রিজে নবাগত ব্যাটসম্যান।’

অথচ হারের পরও মন থেকে বিশ্বাস হারাননি মাশরাফি, ‘শেষ ২ ওভারে যে পরিস্থিতি ছিল, ১-২ রান করে নিলে ম্যাচটি আমরাই জিততাম। সিঙ্গেলস নিয়ে খেললেও ম্যাচটি জিতে যাই।’ সে আর হলো কই! সোজা ব্যাটে বড় শট খেলার সুনাম রয়েছে সাব্বিরের। তবু তিনি রান রেটের চাপ না থাকা সত্ত্বেও ফুলটস খেলেছেন আড়াআড়ি ব্যাটে, আউট হয়েছেন ডিপ মিড উইকেট ফিল্ডারের হাতে ক্যাচ দিয়ে। স্নায়ুচাপেই কিনা একই ভুল করেছেন মুশফিকও। তাতে ভীষণ হতাশ বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক, ‘ম্যাচটি আমাদেরই জেতার কথা ছিল। শেষদিকে রান রেটের কোনো চাপ ছিল না। এমন না যে, ২ ওভারে ২০ রান দরকার। সে ক্ষেত্রে শট খেলার বিষয়টি মানা যেত। আমরা সিঙ্গেলসের ওপর খেললেই ম্যাচটি জিতে যাই। সত্যি বলতে কি, আমরা একই ভুল বারবার করছি। এমন পরিস্থিতিতে স্নায়ুচাপ সামলাতে জানতে হবে। সেটা পারলেই আমরা জিতে যেতাম।’

অভাবিত এ হারের ধাক্কায় টালমাটাল বাংলাদেশ দল আজই যাচ্ছে সেন্ট কিটসে। সেখানে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচের পর রয়েছে একটা টি-টোয়েন্টিও। তবে মুঠো গলে দ্বিতীয় ওয়ানডের জয় বেরিয়ে যাওয়া বাংলাদেশ সেন্ট কিটসে পূর্ণোদ্যমে ঝাঁপিয়ে পড়বে—এতটা আত্মবিশ্বাসী শোনাচ্ছে না মাশরাফিকেও, ‘পেছন থেকে এগিয়ে যাওয়া দলগুলো বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।’ পাশাপাশি ম্যাচে হেরে যাওয়া দল হয়ে পড়ে হতোদ্যম। তাতে সেন্ট কিটসের সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচকে ঘিরে নতুন করে আর আশার আলো জ্বালানোটা ঝুঁকিপূর্ণ। মাশরাফি অবশ্য এখনো হাল ছাড়েননি, ‘আশা তো অবশ্যই করি।’ বললেও ওয়ানডে অধিনায়কের কণ্ঠে অভ্যস্ত সেই জোরটা নেই, বোধগম্য কারণেই!

ওদিকে খাদের কিনারা থেকে আচমকা প্রত্যাবর্তনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। স্বাগতিকদের অগ্রগামিতার বিষয়টিতে যেন সায়ও আছে মাশরাফির। সাফল্যের এভারেস্টের কাছে গিয়ে ব্যর্থতার অতলে তলিয়ে যাওয়ার ‘আফটার শক’ থেকে তো আর মুক্তির ফর্মুলা জানা নেই বাংলাদেশের।

তাতে সেন্ট কিটসে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে শুরু হবে ‘অ্যাডভান্টেজ ওয়েস্ট ইন্ডিজ’ ধরে!