এক্সক্লুসিভ সংবাদ

এবার মসজিদে আশ্রয় পেল হিন্দুরা

ভারতের কেরালায় বন্যায় মসজিদ ডুবে যাওয়ায় গত বুধবার (২২ আগস্ট ২০১৮) মন্দিরে মুসলমানদের ঈদের নামাজ পড়ার সুযোগ করে দেয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। এবার সেই কেরালায় মসজিদে ১৭ হিন্দু পরিবারকে আশ্রয় দিয়েছে মুসলমানরা। ওইসব হিন্দু পরিবারের বাড়িঘর পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যা যেন ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে এক কাতারে এনে দাঁড় করিয়েছে।

এদিকে, বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি ঘটায় আক্রান্ত এলাকার মানুষ নিজ নিজ গ্রামের ফিরে যাচ্ছেন। সেই সঙ্গে প্রকাশ পাচ্ছে বেশ কিছু অনন্য সাধারণ মানবিক গল্পের। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও ঐক্যের সেসব উদাহরণ সাধারণ মানুষদের আপ্লুত করছে।

কেরালার দক্ষিণ মালাপুরামে আরো একটি ঘটনা প্রকাশ পেল। টাইমস অব ইন্ডিয়া খবরে বলা হয়, সেখানের জুমা মসজিদে আশ্রয় পেয়েছিল বন্যা দুর্গত ১৭টি হিন্দু পরিবার। শিশু, বৃদ্ধ, নারী ও পুরুষসহ গৃহহীন পরিবারগুলো মসজিদে রাত্রিযাপন করেছেন, আহার সেরেছেন। এমনকি বাড়ি ফেরার সময় তাদেরকে দেওয়া হয়েছে গৃহস্থলি কাজের জরুরি কিছু মালামাল।

আশ্রয় দেওয়া চালাইয়ার গ্রামের পঞ্চায়েত ওসমান বলেন, ‌‌মসজিদে অবস্থান করা মোট ৭৮ জনের অধিকাংশই ছিলেন হিন্দু ধর্মাবলম্বী। পরবর্তীতে তাদের সাহায্যের জন্য সেখানে রিলিফ ক্যাম্পও খোলা হয়। হিন্দু-মুসলিম বিভেদ ভুলে পারস্পরিক এমন একাত্মতার গল্প নিশ্চয়ই ভারতবাসী অনেকদিন মনে রাখবেন।

ভারতের কেরালা রাজ্যে গত একশ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। বন্যায় পাঁচশ’র বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। গৃহহীন হয়েছেন প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ।

এদিকে, কেরালার এই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অধিকাংশ মসজিদ। এ কারণে ঈদুল আজহায় ঈদের নামাজ আদায় করতে পারেননি কেরালার অধিকাংশ মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষ।  তবে ওই দিনই সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন থৃসুর জেলার সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। মালায় জেলার পুরাপ্পিল্লিকাভু রক্তেশ্বরী মন্দিরের দরজার তারা খুলে দিয়েছিলো মুসলিমদের জন্য।

মসজিদ মহল্লা কমিটির প্রধান খালিদ বলেন, মসজিদে পানি না নেমে যাওয়ায় আমরা মন্দির কমিটির সাথে কথা বলি। তারা সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে যায় ও আমাদের মন্দিরে নামাজ আদায় করতে বলে।

স্থানীয়রা জানান, ঈদের দিন সকালেও বন্যাকবলিত ওই অঞ্চলের অধিকাংশ মসজিদই জলাবদ্ধ অবস্থায় ছিল। কিন্তু মন্দির কর্তৃপক্ষের কারণে নামাজ পড়ার সুযোগ হয়েছে তাদের। এ বিষয়ে স্থানীয় মসজিদ মহল্লা কমিটির পি.এ খালিদ বলেন,’ আমরা আশা করেছিলাম পানি নেমে যাবে। বুধবার মসজিদেই আমরা ঈদের নামাজ আদায় করতে পারবো। কিন্তু বুঝতে পারলাম এটা কোন ভাবেই পানি নামবে না। তখন সবার মনেই কষ্ট নেমে আসলো এবার  হয়তো ঈদের নামাজ আদায় করা হবে না। এরপরে আমরা মন্দির কমিটির একজনের সঙ্গে কথা বললাম। তিনি সঙ্গে সঙ্গে মন্দিরে নামাজ আদায়ের জন্যে আমন্ত্রণ জানালেন।’

অপরদিকে, ঈদের খরচ কমিয়ে ভারতের মুসলিমরা কেরালার মানুষদের অর্থ সহায়তাও প্রদান করেছেন বলেও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস