জাতীয়

এক মঞ্চে আন্দোলন করবে বিএনপি ও যুক্তফ্রন্ট

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ পাঁচ দফা দাবিতে একমঞ্চ থেকে আগামী দিনে সব আন্দোলন করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি, যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া। রাজধানীর গুলশানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বাসায় গতকাল রবিবার রাত ৯টায় বিএনপি, যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।বৈঠক শেষে ঐক্যপ্রক্রিয়ার অন্যতম নেতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আজ সোমবার বিএনপির ১২ লক্ষ্য ও যুক্তফ্রন্ট এবং ঐক্য প্রক্রিয়ার ৯ লক্ষ্য নিয়ে আবারও বৈঠক হবে। সেখানে আলোচনার ভিত্তিতে একটি কমন লক্ষ্য ঠিক করা হবে। পাশাপাশি এই ঐক্যমঞ্চের একটি নাম চূড়ান্ত করা হবে। এখন থেকে সব কর্মসূচি একত্রে করা হবে।

ক্ষমতার ভারসাম্যসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে আজ সোমবার আবার আলোচনায় বসবেন বলে জানান নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, একই মামলায় অন্যদের জামিনের পরও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া কেন জেলে? আমরা জানি না। আমরা খালেদা জিয়াসহ কোটা ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে এবং গায়েবি মামলায় আটক সবার মুক্তি চাই। জনগণ আজ শঙ্কিত; সবাই ঐক্য চায়। এটা সবার চাওয়া। আমরা আগামীতে বসে আন্দোলন-কর্মসূচি ঠিক করব।বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ পাঁচটি মৌলিক দাবিতে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। এগুলোর ওপর ভিত্তি করে আমরা বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলব। এই দাবিগুলো আদায় করে বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন করব।মওদুদ বলেন, আমাদের দাবি খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ সব রাজনৈতিক নেতার মুক্তি ও কোটা সংস্কার, নিরাপদ সড়কের দাবিতে আদোলনকারীদের মুক্তি, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন, সংসদ ভেঙে দেওয়া, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন ও নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে মোতায়েন করা।বিএনপি, যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাদের মধ্যে প্রথমবাবের মতো আনুষ্ঠানিক এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। বৈঠকে যুক্তফ্রন্টের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আ স ম আবদুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না, মেজর (অব) মান্নান, তানিয়া রব, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার মোস্তফা মহসীন মন্টু ও আ ব ম মোস্তফা আমীন। বিএনপির পক্ষে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। এ ছাড়া বৈঠকে ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন।এ দেশ কোনো ব্যক্তির নয় ড. কামাল : এদিকে ‘এ দেশ আমাদের সবার, কোনো ব্যক্তির নয়, কোনো দলের কিংবা পরিবারের নয়’ মন্তব্য করেছেন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেছেন, জনগণের ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা হবে, যার সামনে দাঁড়িয়ে কেউ আমাদের বঞ্চিত করতে পারবে না। ১৬ কোটি মানুষের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। অতীতে যেমন ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন সফল হয়েছে, এবারও হবে। জনগণের মালিকানা তাদের কাছে ফিরে আসবে।গতকাল বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ভোটের অধিকারের দাবিতে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এ কথা বলেন।ড. কামাল বলেন, দেশে জনগণের মালিকানা না থাকলে পাইকারিভাবে লুটপাট হয়। এ দেশে জনগণের সম্পত্তি পাচার হয়। পত্রপত্রিকায় দেখা যায়, হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে লুটপাট হচ্ছে। এগুলো যায় কোথায়? দেশে বিনিয়োগ হচ্ছে না, কলকারখানা হচ্ছে না, নতুন কর্মসংস্থান হচ্ছে না। অর্থাৎ স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি পালন করা হচ্ছে না। বর্তমানে জনগণও বুঝতে পারছে। আমরা যেখানেই যাই অসাধারণ সাড়া পাই। আজকে (রবিবার) আপনাদের উপস্থিতি আমাদেরকে সেই আশ্বাস দিচ্ছে। আজকে বোঝা যাচ্ছে ১৬ কোটি মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে পরিবর্তন আনবে।এই সংবিধান প্রণেতা বলেন, পরিবর্তন আনতে হলে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের বিকল্প নেই। আর অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি করে আমরা জনগণের ঐক্য প্রক্রিয়ায় নিয়োজিত। কোনো দাবি আদায় করতে হলে ঐক্যবদ্ধ জনগণের শক্তি দিয়েই করা যায়। তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে সব আন্দোলনে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি, অসম্ভবকে সম্ভব করেছি। সুত্র- আমাদেরসমায়।