বিএনপি

একতরফা নির্বাচন করার জন্য এই রায় একটি কারসাজি : রিজভী

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ছবি ফোকাস বাংলা

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ‘স্টেট স্পন্সরড জাজমেন্ট’বলে মন্তব্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিএনপিকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করার জন্যই সরকারের বিশেষ ব্যক্তির মনোবাঞ্চা পূরণে এই রায়। এই রায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এ জন্য যে, একতরফা নির্বাচন করার জন্য এই রায় একটি কারসাজি। জনগণ এই রায় প্রত্যাখান করেছে। এই রায়ের প্রতিবাদে তাৎক্ষণিভাবে সারাদেশে বিক্ষোভ করেছে বিএনপিসহ সাধারণ জনগণ।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রিজভী বলেন, ২১ আগস্ট বোমা হামলা মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ফাঁসানোর জন্য রাষ্ট্রযন্ত্রকে নির্মমভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল। হাত-পায়ের নখ তুলে নিয়ে অকথ্য শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে সম্পূরক জবানবন্দি নেয়া হয়েছিল। মুফতি হান্নান দাবি করে বলেন, ব্যাপক নির্যাতন করে সিআইডির লিখিত কাগজে তার সই আদায় করা হয়েছে। এ বিষয়ে গত ২৮-০৯-২০১১ তারিখে একটি পত্রিকায়- ‘সম্পূরক জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন মুফতি হান্নানের’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছে- ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় তারেক রহমান, লুৎফুজ্জামান বাবরসহ বিএনপি-জামায়াত নেতাদের জড়িয়ে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন মুফতি হান্নান। তিনি (মুফতি হান্নান) স্বেচ্ছায় আদালতে এ ধরনের কোনো জবানবন্দি দেননি বলে আদালতকে জানিয়েছিলেন।
রিজভী বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে বন্দুকের জোরে তাড়িয়ে দেয়া এবং সঠিক বিচার করতে গিয়ে জেলা জজ মোতাহার হোসেনকে দেশ ছাড়তে হয়েছে। সুতরাং বুধবার নিম্ন আদালত যদি সঠিক রায় দিতো তাহলে তাকেও দুর্ভাগ্য বরণ করতে হতো। লক্ষ্মীপুরে অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলামকে প্রকাশ্যে খুন করে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা রাষ্ট্রপতির ক্ষমা নিয়ে বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তথ্য মতে, এ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বিশেষ ক্ষমতায় প্রায় ৬ হাজারের মতো ভয়ঙ্কর আসামিকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। সরকার এবং সরকার নিয়ন্ত্রিত বিচার প্রক্রিয়া দুষ্টকে পালন করারই দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। সুতরাং যতদিন সরকার ক্ষমতায় থাকবে ততদিন কেউ ন্যায়বিচার পাবে না বলেই জনগণ মনে করে।
রিজভী এ সময় সারাদেশে বিএনপি ও এর অঙ্গ এবং সহযোগী নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের তথ্য তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের নেতারা বিএনপি নেতাকর্মীদের দোকান-পাট, বাড়িঘরে ব্যাপক হামলা চালিয়ে উল্টো তাদের (বিএনপি নেতাকর্মী) নামেই যে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে তার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান রিজভী।
সংবাদ সম্মলেনে উপস্থিতি ছিলেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান খান, সাংগঠনিক সহ-সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, দপ্তর সহ-সম্পাদক মুনির হোসেন, নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।