লাইফস্টাইল

‘একটি ধাক্কায় আমাদের বন্ধুত্ব তৈরি করে, আর বন্ধুত্ব থেকে ভালোবাসায়’

অফিস থেকে এসেই আমি তো অবাক।আরে কি ব্যপার।দরজা খোলা কেনো।ভিতরে ঢুকেই চমকে গেলাম…….
-আরে “তুসি” তুমি এখানে।আর এইসময়ে কেনো।(আমি)
-কেনো।এখানে কি ঐ রিতু মেয়েটা থাকলে মনে হয় তুমি বেশি খুশি হতে।তাই না।(তুসি)
(কথাটা শুনে আরো বেশি অবাক হলাম।এখানে রিতুর কথা উঠছে কেনো।হ্যাঁ রিতু আমার কলিগ।আজ ওর সাথে দুপুরে খেতে  গিয়েছিলাম।তুসি কি তা দেখে ফেললো নাকি…….)
-আরে কি যে বলো না
-আমার হবু স্বামীর বাড়ি আমি যখন তখন আসতে পারি।তাতে কি।
-হুম তা তো আসতেই পারো।
-তোমাকে না মাঝে মাঝে মন চায় গলা টিপে হত্যা করি।
-হবু স্বামীকে মেরে দিলে যে বিয়ের আগেই বিধবা হয়ে যাবে।যে
-তুমি না আমায় আর আগের মতো ভালো বাসো না।(কথাটা বলেই কাঁদতে কাঁদতে দৌড়ে চলে গেলো)
-নাহ অনেক অভিমানী হয়ে গেছে।অভিমান টা ভাঙ্গাতে হবে।
.
ফ্রেসে হয়ে আর দেরি না করে চলে গেলাম।তুসি দের বাসায়।দরজার সামনে বেল বাজাচ্ছি।,,,,,,
দরজা খুললো তুসি……
.
-একি তুমি এখানে।চলে যাও।(তুসি)
-ভিতরে আসতে দিবা না।(আমি)
-না।
-কেনো।আমি কি আমার হবু স্ত্রী বাসায় আসতে পারি না।
-না পারো না।
-এই তুসি।তুসি তুই দরজায় কার সাথে ঝগড়া করছিস।(শাশুরি মা)
-কারো সাথে না।-আরে দেখি দেখি।বাবা রাহি তুমি।(শাশুরি মা)
-জ্বি।শাশুরি আম্মা আমি।
-ভিতরে আসো বাবা।
-জ্বি
(অভিমানে ঘরে কোণা তাকে ডাকছে।আমার দিকে তাকিয়ে একটা ভেঙ্গছি মেরে চলে গেলো নিজের রুমে)
-বাবা তুমি বস।আমি চা করে নিয়ে আসছি
-আচ্ছা
.
তুসির রুমে গিয়ে দেখি।ঝানলার দিয়ে তাকিয়ে পুর্ণিমা রাঁতের চাঁদের খুশি উপভোগ করছে।
-কি রাগকুমারী।অনেক রাগ না আমার উপর।
-যাও তুমি আমার সাথে কথা বলবা না।
(হাটু গেড়ে বসে ওকে একটি রিং পরিয়ে দিয়ে হাতে আলতো করে চুমো দিয়ে)
তুমি আমার প্রথম শুরু
তুমি আমার শেষ
ভালোবাসার এক নিয়তি
রবে সারা জনম বেশ

I LOVE YOU JAN
-চুপ
-আরে বোকা।ও আমার বোনের মতো।জাষ্ট ভাইবোন।
-চুপ
-বিশ্বাস না করলে ওকে ফোন দেই
-না থাক।আর ঢং করতে হবে না।(একটু কাদো কাদো গলায়)
-তাহলে এবার একটু হাসো।
.
এতক্ষণ যার সাথে একটু প্রেমময় রাগ অভিমান ভাঙ্গানোর চেষ্টায় উম্মাদ আমি সে আর কেউ নয়।আমার হবু স্ত্রী তুসি।আমাদের প্রেম টা শুরু হয় সেই কলেজ জীবন থেকে।আনমোনা হয়ে হাঁটছিলাম।ছোট বেলা থেকেই সব অদ্ভুত চিন্তা মাথার মধ্যে ঘুরপাক খেতো এখনও তা যায় নি।হঠাৎ দৌড়ে এসে একটি মেয়ে ধাক্কা দিলো।হুম মেয়েটি আর কেউ না তুসি….:….
-সরি সরি ।আপনার কোথাও লাগে নি তো।(তুসি)
-না না।আমি ঠিক আছি।আপনি (আমি)
-হ্যাঁ।একটু লজ্জা পেয়ে
তুসি ছিলো অনেক সুন্দর।যাকে বলে দুধে আলতা।একটি ধাক্কা যে আমাদের বন্ধুত্ব তৈরি করবে।আর বন্ধুত্ব থেকে ভালোবাসায় মোড় নিবে বুজতেই পারি নি।
-হেলো (তুসি)
-আরে আপনি।কেমন আছেন
-জ্বি ভালো।তবে আমি আপনার ছোট .তুমি বললে খুশি হতাম।আপনি বললে বুড়ি বুড়ি লাগে।
-হা হা হা।আচ্ছা তুমি
-তুমি কি ফ্রি আছো।
-হ্যাঁ হ্যাঁ
-একটু হাঁটবে আমার সাথে
-হ্যাঁ।অবশ্যই
এভাবে কখন যে তুসির প্রেমে পড়ে গেলাম।নিজেও টের পেলাম না।কলেজের ভালো বন্ধুর সাথে সাথে আমার ভালোবাসা ও ছিলো তুসি।আর এই খবর ছড়ায় পরিবারের সদস্যদের কাছে।একমাত্র ছেলে হওয়ার সত্যে তারা আমাদের ভালোবাসা মেনে নেয়।এভাবেই প্রেমময়ের সাথেই আমাদের সময় পার হচ্ছিলো
:
-তুসি আজ তো পূর্ণিমা চাঁদ আর তারা দেখা যাবে চলো ছাদে যাই।
-আমি যাবো না।
-আরে চলো না চলো যাই
-আমার পা ব্যাথা
তুসি কে কোলে তুলে নিলাম।
-আরে কি করছো।কেঊ দেখে ফেলবে-কেউ দেখবে না
লজ্জায় তুসি বুকে মাথা গুজালো
-এই কি হলো চাঁদ দেখবে না
-হুম।দেখবো
ছাদের এককণায় বসে আমি আর তুসি চাঁদ দেখছি।হঠাৎ তাকিয়ে দেখি।চাঁদের আলোয়।তুসির চেহারা হালকা নীল হয়ে রয়েছে।কি অপরূপ লাগছে
-এভাবে তাকিয়ে কি দেখছো
-তোমাকে
-কেনো
-পরীর মতো লাগছে
-পরী দেখছো কখনো।(হালকা সুরে)
-না।তোমাকে দেখেই পরী মনে হচ্ছে।
(কিছুহ্মণ নিরবতা)
-এই এই কাছে আসবে না।বিয়ের আগে এসব নয়।ও ও
-চুমমমম।
-তুমি না খুব দুষ্ট
-ও তাই
-তুমি কি আমায় ভালোবাসো না
-হুম বাসি
-এভাবেই বাসবে।
-হুম বাসবো।
চলো আজ সারারাত ছাদেই কাটিয়ে নতুন জীবণের এক অধ্যায়ে পা বাড়াই….তুসি আমার কাধে মাথা রেখে চাঁদ দেখছে আমি তুসি কাধে।এভাবেই পথ চলা শুরু নতুন এক ভালোবাসার