জাতীয়

ইশরাক ফিরবে আশায় মা দরজা খোলা রেখে ঘুমান

ছেলে নিখোঁজ হয়েছে ১১ মাস হয়ে গেছে। কিন্তু মায়ের মন বলছে তাঁর ছেলে যেকোনো সময় ফিরে আসবে। রাতে গভীর ঘুমে থাকলে কলিং বেলের শব্দ তিনি যদি শুনতে না পান, এই ভয়ে তিনি দরজা খোলা রেখে ঘুমান রাতে। কিন্তু ফিরছে না গত বছরের ২৭ আগস্ট ধানমণ্ডি এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়া কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইশরাক আহমেদ।

আরেক নিখোঁজ সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামানের (৬১) খোঁজও মিলছে না দীর্ঘদিন ধরে। গত বছর ৪ ডিসেম্বর রাজধানী থেকে নিখোঁজ হন তিনি। মারুফ জামান বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ও ওয়ান-ইলেভেনের পর সরকারের সময় কাতার ও ভিয়েতনামে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিগত আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের শুরুর দিকে অতিরিক্ত পররাষ্ট্রসচিব হিসেবে অবসরে যান তিনি।

ইশরাক নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারে ভয়ও ছড়িয়েছে। ইশরাকের ছোট ভাই তাওসিফ আহমেদ ঘর থেকে বের হতে ভয় পেতেন। পরিবার তাঁকে অস্ট্রেলিয়া পাঠিয়ে দিয়েছে। সেখানকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন তাওসিফ। সবার ছোট ছেলে সাইফান আহমেদকে নিয়ে এখন থাকছেন ইশরাকের বাবা জামাল উদ্দিন ও মা নাসরিন আক্তার।

ইশরাকের বাবা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অপরিচিত কোনো নম্বর থেকে ফোন এলে ভাবি, এই ফোনেই হয়তো শুনব ছেলের কণ্ঠ। আমাদের দিন চলে না। রাত কাটে না। খেতে গেলে মনে পড়ে সন্তানের কথা। ও কেমন আছে, কোথায় আছে, কী খাচ্ছে কে জানে। চোখের পানি ফেলা ছাড়া আমাদের আর কী-ই বা করার আছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘ইশরাক নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে থানা পুলিশ, র‌্যাব, কাউন্টার টেররিজম ইউনিটসহ এমন কোনো স্থান নেই যেখানে যাইনি। কিন্তু কেউ তার খোঁজ দিতে পারেনি।’ তিনি আরো বলেন, ‘ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তার মা শয্যাশায়ী। রাতে ঠিকমতো ঘুুমাতে পারে না। তার ধারণা কোনো এক রাতে অন্য নিখোঁজদের মতো আমার ইশরাকও ফিরে আসবে। সেই কারণে তার ঘরের দরজা খোলা রেখে ঘুমায়। কারণ যদি ইশরাক এসে কলিং বেল বাজায় তখন যদি সে শুনতে না পায়।’

জামাল উদ্দিন আরো বলেন, ‘গত বছর আগস্ট মাসে যাঁরা নিখোঁজ হয়েছিলেন তাঁদের সবারই খোঁজ মিলেছে। এর পরও যাঁরা নিখোঁজ হয়েছেন তাঁরাও বাড়ি ফিরেছেন। কিন্তু আমরা ইশরাকের খোঁজ পাচ্ছি না। পুলিশ র‌্যাবের কাছে আর কত দৌড়াব?’

সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান ধানমণ্ডি ৯/এ সড়কের ৮৯ নম্বর বাসায় পরিবার নিয়ে বাস করেন। গত বছর ৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তিনি ধানমণ্ডির বাসা থেকে প্রাইভেট কারযোগে বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় তাঁর মেয়ে সামিহা জামান বিদেশ থেকে বিমানবন্দরে এসে পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু মারুফ জামান বিমানবন্দর যাননি, বাসায়ও ফিরে আসেননি। পরে সামিহা জামান ধানমণ্ডি থানায় জিডি করেন। জিডির পর সারা দেশের থানাগুলোয় ওয়্যারলেস মেসেজ পাঠায় পুলিশ। এরপর খিলক্ষেত থানা পুলিশ পরিত্যক্ত অবস্থায় ৩০০ ফুট রাস্তা থেকে তাঁর প্রাইভেট কারটি উদ্ধার করে। মারুফ জামানের বিষয়ে কথা বলতে চাইলে তাঁর স্বজনরা কথা বলতে চায়নি।

দুটি ঘটনারই জিডি করা হয়েছে ধানমণ্ডি থানায়। ওসি আবদুল লতিফ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তাদের সন্ধান এখনো পাইনি। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।’