রাজনীতি

আসন ভাগাভাগির নির্বাচনে কে হবেন ঢাকা-১ আসনের কর্তা?

ভুবন বাংলা২৪ নিউজডেস্কঃ  চলছে নির্বাচনী বছর। ইতিমধ্যেই তফসীল ঘোষণা হয়ে গেছে। নির্বাচনী বছর মানেই আসনগুলোতে থাকবে উৎসবের আমেজ।কিন্তু গত নির্বাচনী বছর গুলোর তুলনায় ২০১৮-এর সংসদ নির্বাচনের হাওয়া একটু ভিন্ন রকম। এ সময় যেখানে প্রতিটি গ্রামে-গ্রামে ব্যানার পোস্টারের ভরে থাকার কথা তার কোনো কিছুই লক্ষ করা যাচ্ছে না।

এরকম চিত্র দেখা গেছে বর্তমান ঢাকা জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসেবে বিবেচিত দোহার-নবাবগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১ আসনে। তবে মাঝে মাঝে আওয়ামী লীগের সম্ভব্য প্রার্থী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা ও বেক্সিমকোর সহ-সভাপতি সালমান এফ রহমান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খান  এবং জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বর্তমান এমপি অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামের নির্বাচনী ব্যানার পোস্টার লক্ষ করা গেছে।

অন্যদিকে, বিএনপির পক্ষ থেকে প্রচারণার কোনো কিছুই লক্ষ করা যাচ্ছে না। এত বড় আসনে যতসামান্য ব্যানার পোস্টার ও বড় দল প্রচারণায় অংশ না নেওয়ায় জনমতে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হচ্ছে। তবে নির্বাচনী প্রচারণার ক্ষেত্রে সালমান এফ রহমানের প্রচারণা রয়েছে তুঙ্গে।

অপরদিকে, প্রার্থীতা নিয়ে দুই বড় দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে রয়েছে জটিল সমীকরণ। জাপার একমাত্র প্রার্থী রয়েছেন নির্ভার। অনেকের ধারণা মহাজোটে নির্বাচন হলে এই আসনটি জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বর্তমান এমপি অ্যাড. সালমা ইসলামকে ছাড় দিবে আওয়ামী লীগ। যদি অন্য সকল দল নির্বাচনে অংশ নেয় তাহলে সালমা ইসলাম মহাজোটের প্রার্থী হয়ে লড়বেন।

অন্যদিকে, ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচন বর্জন করায় এক সময়ে বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত সারা দেশের অনেক আসনের মতো ঢাকা-১ আসনে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে বিএনপি। তবে গত নির্বাচনের মত এবার নির্বাচনে বিএনপি ভুল করেবে না বলে ধারনা করা হচ্ছে। তাই একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-১ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান এবং ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও নবাবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান খোন্দকার আবু আশফাক।

২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মান্নান খানের কাছে সামান্য ব্যবধানে হেরেছিলেন বিএনপির মান্নান। এবার তার মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন আশফাক। তিনিও দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে জোড় চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র নেতা কর্মীদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া গেছে।

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দোহার ও নবাবগঞ্জ দুটি আলাদা আসনে বিভক্ত ছিল। কিন্তু ২০০৮ সালে সীমান পুনর্নির্ধারণ করে দুটি উপজেলার সমন্বয়ে ঢাকা-১ আসন করা হয়।

অপরদিকে, ফলাফল যাই হোক কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজী নয়। ধারণা করা হচ্ছে নির্বাচন যে ভাবেই হোক না কেনো কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা দলীয় সিদ্ধান্ত মানলেও কোনো ভাবেই ছাড় দিতে রাজী নন বর্তমান সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির একমাত্র প্রার্থী সালমা ইসলাম। তবে জনগণের চাওয়া ভিন্ন রকম।

নাম প্রকাশে অনইচ্ছুক ও কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত নন এমন একজন বিডিমনিং’কে বলেন, আমারা চাই সকল দলের অংশগ্রহণে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। তবে দোহার-নবাবগঞ্জের নির্বাচনের মাত্রাটা একটু অন্যরকম। এই আসনে হেবিওয়েট প্রার্থীদের মিলনমেলা। কেউ কারো চেয়ে কম নয়। ক্ষমতা, টাকা সবই তাদের রয়েছে। তাই আসনটি ভাগাভাগী না করে যদি সকল দলের অংশগ্রহণে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেওয়া হয় তাহলে নির্বাচন জমবে। আর ভোটারাও তদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোটের মাধ্যমে বাছাই করতে পারবে। তা না হলে ২০১৪ সালের মতো নাটকীয় নির্বাচন হবে।

গত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খানকে ৪ হাজার ৬৫২ ভোটের ব্যবধানে নাটকীয়ভাবে পরাজিত করেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম। এই নির্বাচনে সকল দল অংশগ্রহণ না করায় মাত্র ২৭ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়। সে সময়ে এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৭৮ হাজার ৯৫৭ জন।

এ দিকে, মহাজোটে নির্বাচন হলে আসন ভাগাভাগি নিয়ে প্রতিদিনই তৃণমূলে নানা প্রশ্নের জন্ম হচ্ছে। খানেপুর গ্রামের সোহরাব উদ্দিন বলেন, আমরা আসন ভাগাভাগী চাই না, আমরা চাই নির্বাচন। নির্বাচনের মাধ্যমেই জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করবে। তাই আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনুরোধ এই আসনটি যেনো ভাগাভাগী না হয়। তাহলে জনগণের ভোটাধিকার ক্ষুন্ন হবে।

নাম প্রকাশে অনইচ্ছুক একরাজনীতিবিদ বিডিমনিং’কে বলেন, ঢাকা-১ আসন শিল্পপতিদের আখরা। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সম্ভব্য প্রার্থীরা উভয়ে নাম করা শিল্পপতি। একজন বিশ্ববরেণ্য শিল্পপতি, অপরদিকে আরেকজন দেশবরেণ্য শিল্পপতির স্ত্রী।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচন মানেই লড়াই। লড়াই ছাড়া নির্বাচন জমে না। তাই যদি আসন ভাগাভাগী না করে সকল দলের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেণ তাহলে নির্বাচনটা জমবে।

অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি চাচ্ছে হারানো দুর্গ ফিরে পেতে এবং জাতীয় পার্টি ক্ষমতা ধরে রাখতে দর কশাকশির চেষ্টা চালাচ্ছে। এবার দোহার নবাবগঞ্জে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৩৮ হাজার ৪৮৪ জন। যার মহিলা ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ২০ হাজার ৫শ’ ৪৪ জন এবং পুরুষ ভোটার  ২ লাখ ১৩ হাজার ৯শ’ ৪০ জন।