জাতীয়

‘আর কত রোহিঙ্গা শিশু হত্যার পর বিশ্ববিবেক জাগবে?’

রোহিঙ্গা নিপীড়নকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করে মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতে (আইসিসি) বিচারের উদ্যোগ নিতে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসকে জোর সুপারিশ করেছেন বিশ্বের প্রভাবশালী মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা। গতকাল বুধবার রাতে নিউ ইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের টম ল্যান্টোস মানবাধিকার কমিশনে মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে শুনানিতে অংশ নিয়ে তাঁরা সবাই একবাক্যে ওই সুপারিশ করেন। কংগ্রেসম্যান জিম ম্যাকগভার্ন ও র্যান্ডল মার্ক হল্টগ্রেনের যৌথ সভাপতিত্বে ওই শুনানিতে কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের এশিয়াবিষয়ক বিশেষজ্ঞ মিশেল মার্টিন, কাচিন অ্যালায়েন্সের প্রেসিডেন্ট গুম সান নান, রোহিঙ্গা মানবাধিকার কর্মী তুন খিন, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের নারী অধিকার বিভাগের গবেষক স্কি হুইলার, ফরটিফাই রাইটসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ম্যাথু স্মিথ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইউএসএর এশিয়া প্যাসিফিক অ্যাডভোকেসি ম্যানেজার ফ্রান্সিসকো বেনকজমে ও রিফিউজি ইন্টারন্যাশনালের মানবাধিকারবিষয়ক সিনিয়র অ্যাডভোকেট ডেনিয়েল সালিভান।

তাঁরা জোর দিয়ে বলেন, গণহত্যার আলামত স্পষ্ট। মিয়ানমারের জেনারেলরা কেবল আইসিসি নিয়েই উদ্বিগ্ন। সু চির সরকারও গণহত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাদের আইসিসিতে বিচারের জন্য নিরাপত্তা পরিষদে মতপার্থক্য কাটাতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা রাখার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয়ভাবে মিয়ানমারের ওপর অবরোধ, নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত।

তাঁরা বলেন, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন চালানো মিয়ানমার বাহিনীর ইউনিটগুলোই এখন কাচিন ও শানে নিপীড়ন চালাচ্ছে।

কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের এশিয়াবিষয়ক বিশেষজ্ঞ মিশেল মার্টিন বলেন, মিয়ানমারের বাহিনী দশ বছর আগের চেয়ে এখন আরো বেশি নৃশংস। রাখাইনের পর তারা এখন কাচিন ও শান রাজ্যে একের পর এক গ্রামে হামলা, নৃশংসতা চালাচ্ছে।

রোহিঙ্গা মানবাধিকারকর্মী তুন খিন প্রশ্ন করেন, আর কত হাজার রোহিঙ্গা শিশুকে মিয়ানমার হত্যার পর বিশ্ববিবেক জেগে উঠবে? তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারে সামরিক অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে আমাদের সবার উদ্যোগ নেওয়া উচিত।’

কাচিন অ্যালায়েন্সের প্রেসিডেন্ট গুম সান নান মিয়ানমারকে বিচারের আওতায় আনার পাশাপাশি চাপ বাড়ানোর সুপারিশ করেন।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের নারী অধিকার বিভাগের গবেষক স্কি হুইলার রোহিঙ্গাদের গণধর্ষণ, নির্যাতন, নিপীড়নের শিকার হওয়ার তথ্য তুলে ধরে আইসিসিতে মিয়ানমারের বিচার ও নিপীড়কদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানান।

ফরটিফাই রাইটসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ম্যাথু স্মিথ বলেন, মিয়ানমার বাহিনী যে গত আগস্ট মাসের অনেক আগেই রোহিঙ্গাদের ওপর হামলার ধারাবাহিক প্রস্তুতি নিয়েছে সে বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ আছে। এটি যে গণহত্যা সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আইসিসিতে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও পুলিশের অন্তত ২২ জনের বিরুদ্ধে গণহত্যার বিচার হতে পারে বলে তিনি জানান।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইউএসএর এশিয়া প্যাসিফিক অ্যাডভোকেসি ম্যানেজার ফ্রান্সিসকো বেনকজমে রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসকে একসুরে কথা বলার আহ্বান জানান।

রিফিউজি ইন্টারন্যাশনালের মানবাধিকারবিষয়ক সিনিয়র অ্যাডভোকেট ডেনিয়েল সালিভান বলেন, মিয়ানমারে নৃশংসতার কোনো কমতি নেই। একই সরকার, একই সেনাবাহিনী ও একই ইউনিট এক এক করে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে সংখ্যালঘুদের উৎখাত করছে।