বিনোদন

আমি এখন এতিম এর চেয়ে বড় কষ্ট ও সত্য আর কিছু নেই – চাঁদনী

এফপি

বিচ্ছেদের পর নতুন উদ্যমে কাজে ফেরার ইঙ্গিত মিলছে অভিনয় ও নৃত্যশিল্পী চাঁদনীর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ফটোশুটের নতুন কিছু স্থিরচিত্রও পোস্ট করেছেন, যেমনটা এর আগে তাঁর ক্ষেত্রে দেখা যায়নি। ফেসবুকে পোস্ট করা সেই ছবির নিচে অভিনয় ও নৃত্যশিল্পীদের অনেকে বদলে যাওয়া চাঁদনীকে স্বাগত জানিয়েছেন। কেমন কাটছে এই অভিনয়শিল্পী ও নৃত্যশিল্পীর দিন—নতুন কী পরিকল্পনা এঁটেছেন, তা জানতে যোগাযোগ করা হয় চাঁদনীর সঙ্গে। সবকিছুর উত্তর দিয়েছেন প্রাণ খুলে।

কী করছেন?
আমি এখন বাসায়। মায়ের সঙ্গে বসে আড্ডা দিচ্ছি।

অভিনয় আর নাচ কম করছেন?
আমার চলচ্চিত্রে অভিনয়ের ইচ্ছাটা বরাবরই একটু বেশি—সেই ইচ্ছে এখনো আছে। সামনে নতুন কিছু কাজের ব্যাপারে আলাপ হচ্ছে, দেখা যাক। নাচের অনুষ্ঠান করছি। এবারের ঈদে একটি নাচের অনুষ্ঠান করেছি।

এবার ঈদে টিভি অনুষ্ঠানে বিশ্বকাপ ফুটবল ভাগ বসিয়েছে?
একদমই তাই। এবার বিশ্বকাপ ফুটবলের কারণে নাটকের কাজ কম হয়েছে। প্রতিবছর ঈদে চ্যানেলগুলোতে অনেক নাচের অনুষ্ঠান করা হতো, বিশ্বকাপ ফুটবলের কারণে এবার ছিল না।

আপনাকে তো এমনিতেই কাজ কম করতে দেখা যায়।
পাঁচ বছর কাজ থেকে দূরে ছিলাম। এই দীর্ঘ বিরতির কারণে কাজ কমে এসেছে। আর কিছুই না। অনেক দেখি বলেন, আমাকে নাকি খুঁজে পাওয়া যায় না! এটা পুরোপুরি মিথ্যা।

আপনার সহকর্মীদের কেউ কেউ বলছেন, জীবন ও ক্যারিয়ার নিয়ে আপনি নাকি হতাশ?
হতাশা নয়। এ বছর এপ্রিলে আমার আব্বু মারা যান। হুট করেই আমার সংসার উলটপালট হয়ে গেল। এসব নিয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলাম। হতাশা ভর করেছিল। পরে ভাবলাম, যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। আমাকে নতুনভাবে শুরু করতে হবে।

চাঁদনীচাঁদনীকাটিয়ে ওঠার জন্য কী করছেন?
আবার নাচে মনোযোগ বাড়িয়েছি। নতুন কাজের পরিকল্পনা করছি। কিছুদিন আগে অন্য রকম একটি ফটোশুট করলাম। নিজেকে কাজে ব্যস্ত রাখছি। নতুন কিছু কাজের ব্যাপারেও কথা হচ্ছে। দেখে শুনে ভালো ভালো কাজ করব।

কাজ কম হওয়ার পেছনে পাঁচ বছরের বিরতিও একটি বিষয় ছিল?
এটা ঠিক, মাঝে পাঁচ বছর কাজ না করার কারণে অনেকের কাছ থেকে দূরে সরে গিয়েছিলাম। আর আমি মনে করি, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবকিছুরই বদল হয়—যাঁরা এসব মেনে নিতে পারে না, তারা বোকা। এখন যেসব নির্মাতা কাজ করছেন, তাঁরা আমাকে চেনেও না। কেউ চিনলে আমাকে নেবেও বা কেন! প্রয়োজন ছাড়াও তো নেবে না।

আপনার সমসাময়িকদের প্রায়ই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আড্ডায় মেতে থাকতে দেখা যায়। কেউ ঘরোয়া পার্টিতেও ব্যস্ত থাকেন।
এটা আমি নিজেও জানি। তবে আমি কখনোই ওসব পার্টি মেনটেইন করতাম না। বিয়ের আগে মা সঙ্গে থাকতেন, মায়ের সঙ্গে ঘুরতাম। তা ছাড়া কাজ নিয়ে আমি এত বেশি ব্যস্ত থাকতাম যে ওসব পার্টি মেনটেইন করার সময়ই পেতাম না। পাঁচ বছরের গ্যাপে অনেকে আবার আমাকে ভুলেও গেছে। যাঁরা মনে করেন, তাঁদের ডাকে আমি সাড়া দিচ্ছি। তবে রাত-বিরাতে মানুষের বাসায় আড্ডা দিতে ভালো লাগে না। এখনকার সবাই একটি গ্রুপ মেনটেইন করে—এগুলো হয়তো অবশ্যই প্রয়োজন। তবে আমার পরিবার এত বড় একটা গ্যাং—এখানে বসে থাকলেই আর কাউকে দরকার পড়ে না। নিজেরাই আড্ডা জমিয়ে ফেলতে পারি।

আচ্ছা, নতুন ফটোশুটের বিশেষ কারণ কী?
তা তো আছেই। সবাই আমার নতুন ফটোশুটের ছবির খুব প্রশংসা করেছেন। মৌ আপু তো জড়িয়ে ধরেই আদর করে দিয়েছে। আমার পরিচিতদের সবাই বলেছে, এভাবেই থাকবি, এভাবেই তোকে ভালো লাগছে। ইতিবাচক প্রশংসা সব সময় সবার কাছ থেকে পেয়েছি। আমার আবারও মনে হয়েছে, আমি খুব লাকি।

ক্যারিয়ার ও জীবন নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?
এখন কেউ আমাকে কাজে নেবে, কেউ নেবে না—এটাই বাস্তবতা। আমার কিন্তু এখন সেই বয়সও নেই। জীবন নিয়ে বলব, আমি দশ বছর একজনের স্ত্রী ছিলাম। এখন একা। আমার আবারও মনে হয়েছে, মিডিয়াতে আমাকে কোণঠাসা করেছে।

কারা করেছে?
আমি জানি না। অনেকে আমাকে বলেছে, এই তুই ঠিক হ। আমি কী ঠিক হব! কী করি আমি? আমার জানার খুব শখ। অনেক আজেবাজে কথা শুনেছি আমার নামে, কিচ্ছু আসে-যায় না। এসব তোয়াক্কা করারও সময় নেই আমার। আমি এটা বিশ্বাস করতে চাই, যাঁরা আমাকে চেনেন, তাঁরা চেনেনই। এই মিডিয়াতে সবার সবাইকে প্রয়োজন। প্র্যাকটিক্যাল একটা কথা বলতে চাই, কেউ দেখি আমাকে সহমর্মিতা দেখাচ্ছেন, আবার এঁদেরই কেউ বাপ্পা মজুমদারকে কনগ্র্যাচুলেশন জানাচ্ছেন, তানিয়াকেও জানাচ্ছেন—এটা হতেই পারে। কাজের স্বার্থেই তাঁরা সবাই এমনটা করছেন—আমি এভাবেই বিষয়টি ভাবি। বাপ্পা ও তানিয়াকে নিয়ে মাথাব্যথা নেই। আমি নিজেকে নিয়ে, আমার কাজ নিয়ে ভাবতে চাই। তবে…

তবে কী?
আমার যত আফসোস, আমার যত কষ্ট—সবকিছু আমাকে ঘিরেই থাকুক। আমার পরিবারের কষ্ট আমার কষ্ট। আমার বাবা নেই, আমার মা বিধবা, আমি এখন এতিম—এর চেয়ে বড় কষ্ট ও সত্য আর কিছু নেই। আমার ব্যক্তিগত বিষয়গুলো ব্যক্তিগতই থাকুক। আমি যখন বাপ্পার স্ত্রী ছিলাম, তখন আমাদের সম্পর্কগুলো পার্সোনাল রেখেছি। কখনোই উন্মোচন করিনি। করতে চাইও না। অন্যরা যা করছে, এটা নিয়েও মাথা ঘামাতে চাই না।