লাইফস্টাইল

আমি আমার স্ত্রীকে সুখ দিতে পারছি না তার খুবই খারাপ অবস্থা আমি এখন কি করব?

প্রশ্ন: আমি বিয়ে করছি তখন আমার স্ত্রীর বয়স ছিল 17 বছর ।আমার লিঙ্গের size 5.2 ইঞ্চি এবং ডিউরেশন 4/5 মিনিট ।বিয়ের প্রথম পাচ বছর আমরা খুব সুখী  জীবন পার করেছি ।এখন আমার স্ত্রীর বয়স 23 বছর।3 মাস আগে তার বাচ্চা (baby) হয়েছ।এখন তার  অনেক বেড়ে গেছে এবং আমিও তাকে সুখ দিতে পারছি না।তার ওই যায়গা টা অনেক বড় হয়ে গেছে।।অনেক ডাক্তার দেখানোর পরেও কোন লাভ হযনি ।এখন আমি কি করব যদি কোন ভাই পরামর্শ দেন খুশি হব।

স্ত্রীকে সুখী করার উপায়

উত্তর:আপনার এই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।তবে এইটা খুবি important ও ব্যপক এক সমস্যা যা আমাদের দেশের অধিকাংশ পুরুষদের মধ্য ব্যপক হারে ছড়িয়েছে।আর তার কারন হল আমরা নিজেরাই। মহান আল্লাহ তায়লা একজন মানুষকে তার প্রয়জন অনুজায়ী যতটুকু সেক্স প্রয়জন ঠিক ততটুকু দিয়েই আমাদের সৃষ্টি করেছেন। আমরা নিজেরাই আমাদের সেক্স নষ্ট করে চলেছি।

এখন জেনে নেয়া যাক কী কী কারনে আমাদের এই সমস্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

১। টাকনুর নিচে প্যন্ট/কাপড় পরা।
২। হস্থমৈথন করা।
৩। চরিত্র ও যৌ’নাঙ্গ হেফাজত না করা।- অর্থাৎ নিজের স্ত্রী ছাড়া অন্য কোনো জায়গায় নিজের যৌনাঙ্গ ব্যবহার করা।
৪। অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস (irregular food habit)।
৫। অনিয়মিত ঘুম। / রাতে দেরি করে ঘুমানো।
৬। দাড়ি কাটা।
৭।আমাদের স্ত্রীদের/ আমাদের ঘরের বোনদের টাকনুর উপরে কাপড় পরলে বাধা না দেয়া।
৮। ইত্যাদি।

এখন আসুন বিস্তারিত আলোচনা করা যাক।
১। টাকনুর নিচে প্যন্ট/কাপড় পরা।
সম্প্রতি (recently) আমেরিকার এক গবেষণা থেকে প্রকাশিত হয়েছে টেস্টোস্টেরন নামক এক প্রকার হরমন যা আমাদের টাকনুতে থাকে । টাকনুর নিচে প্যন্ট/কাপড় পরিধান করলে সেই হরমন শুকিয়ে যায়। যার ফলে যৌন শক্তি কমে যায়।
অথচ আমাদের প্রিয়নবী (সঃ) ১৫০০ বছর আগে বলে গেছেন, টাকনুর নিচে প্যন্ট/কাপড় পরা হারাম।

আমাদের নবীজী মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন যে, পুরুষদের নিচের অংশের পরিধেয় পোশাকের যে অংশ টাখনুর নিচে ঝুলানো থাকে, সে অংশটা জাহান্নামে যাবে। (সহীহ বুখারী, ৭নং খন্ড, পোশাক অধ্যায়, হাদীসে নং- ৬৭৮)
তায় এই বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে।

২। হস্থমৈথন করা।Masturbation
হস্তমৈথুন(Masturbation)বা স্বমেহন বর্তমানে একটি বড় সমস্যা। ইসলামের দৃষ্টিতে এটা হারাম এবং কবীরা গুনাহ। শরীয়ত অনুযায়ী যারা হস্তমৈথুন করে তারা সীমালংগনকারী।

পুরুষ হস্তমৈথুন করলে প্রধান যেসব সমস্যায় ভুগতে পারে তার মধ্যে একটি হল নপুংসকতা (Impotence)।
[১]। অর্থাৎ ব্যক্তি যৌন সংগম স্থাপন করতে অক্ষম হয়ে যায়। পুরুষ হস্তমৈথুন করতে থাকলে সে ধীরে ধীরে নপুংসক (Impotent)হয়ে যায়। আরেকটি সমস্যা হল অকাল বীর্যপাত(Premature Ejaculation)। অর্থাৎ খুব অল্প সময়ে বীর্যপাত ঘটে।ফলে husband তার স্ত্রীকে সন্তুষ্ট করতে অক্ষম হয়।
বৈবাহিক সম্পর্ক বেশিদিন স্থায়ী হয় না।
[২]। আরো একটি সমস্যা হল emporary Oligospermia।
[৩] ।Oligospermia হলে বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যায়।তখন বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা হয় ২০ মিলিয়নের কম।[২ কোটি]। যার ফলে Male infertility দেখা দেয়।অর্থাৎ সন্তান জন্মদানে ব্যর্থতার দেখা দেয়। একজন পুরুষ যখন স্ত্রী গমন করেন তখন তার থেকে যে বীর্য বের হয় সে বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা হয় ৪২ কোটির মত।স্বাস্থ্যবিজ্ঞান মতে কোন পুরুষের থেকে যদি ২০ কোটির কম শুক্রাণু বের হয় তাহলে সে পুরুষ থেকে কোন সন্তান হয় না।
[৪]।অতিরিক্ত হস্তমৈথুন পুরুষের যৌ’নাঙ্গকে দুর্বল করে দেয়। Dr.Liu বলেন– “There is a huge change in body chemistry when one masturbates excessively”

৩। চরিত্র হেফাজত না করা।- অর্থাৎ নিজের স্ত্রী ছাড়া অন্য কোনো জায়গায় নিজের যৌনাঙ্গ ব্যবহার করা।
নিজের স্ত্রী ছাড়া অন্য কোনো জায়গায় নিজের যৌনাঙ্গ ব্যবহার করলে HIV virus ছড়াতে পারে ।

ইসলামের দৃষ্টিতে বিবাহবহির্ভুত শারীরিক মিলন সম্পুর্ন হারাম! এমনকি বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমানীতঃ যে সকল নর-নারী বিবাহপুর্ব শারীরিক মিলন করেছে তারা বিবাহ পরবর্তী যৌন জীবনে অসুখী। আর যে সকল নর- নারী বিবাহপুর্ব শারীরিক মিলনে লিপ্ত হননি – তারা বিবাহ পরবর্তী সুখি জীবনযাপন করেন। তাই বিবাহের আগে শারীরিক মিলন থেকে বিরত থাকুন। আর বিবাহের পর নিজের স্ত্রী ছাড়া অন্য কোনো জায়গায় নিজের যৌনাঙ্গ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।

৪। অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস।
টেস্টোস্টেরন নামে একধরনের হরমোনের মাত্রা কমে গেলে যৌন ইচ্ছা হ্রাস পায়। যেসব খাবারের কারণে এই হরমোনের মাত্রা কমে যায় সেসব খাবার খেলে পুরুষদের যৌন আকাঙ্ক্ষা কমে যেতে পারে। যৌন আকাঙ্ক্ষা স্বাভাবিক রাখতে চাইলে যেসব খাদ্য আপনার এড়িয়ে চলা উচিৎ ।

অতিরিক্ত খাওয়া দাওয়া করলে খুব স্বাভাবিকভাবেই আপনার ওজন বেড়ে যাবে। আর ওজন বেড়ে গেলে যৌনতার ইচ্ছা কমে যায়। যেকোনো ধরনের খাবার অতিরিক্ত খাওয়াই যৌন আকাঙ্ক্ষার সবচেয়ে বড় শত্রু।

খাওয়া দাওয়ার ওপরে মানুষের বয়স বাড়াটাও নির্ভর করে। যাদের ওজন বেশি, ৩৫ থেকে ৬০ বছরে তাদের বয়স দ্রুত বেড়ে যায়। শরীর সময়ের আগেই বৃদ্ধ হয়ে পড়ে। বিশেষ করে যারা অতিরিক্ত চাপে থাকেন, অনিয়মিত ও অনিয়ন্ত্রিত খাবার খান, ব্যায়াম করেন না তাদের ক্ষেত্রে এই ব্যাপারটা বেশি ঘটে।