খেলাধুলা

আবারও বাঘের গর্জন

খাঁচাবন্দি হয়ে পড়েছিলেন বাঘ। জীবনে ঝড় বয়ে যায় ২০১০ সালে। বিবাহবিচ্ছেদের পর ১৪ মেজর জয়ী গলফ কিংবদন্তি টাইগার উডসকে ঘিরে বের হতে থাকে একের পর এক নারী কেলেঙ্কারির খবর। মানসিক চিকিৎসা করিয়ে আবারও ফিরেছিলেন গলফে; কিন্তু ২০০৭ সালের পর মেজর জেতা হয়নি আর। পতনটাও হয়েছে দ্রুত। র‌্যাংকিংয়ে সবচেয়ে বেশি সপ্তাহ শীর্ষে থাকা টাইগার ২০১৫ সালে প্রথমবার ছিটকে পড়েন ১০০-র বাইরে। পরের বছর ৫০০ নম্বরে। ২০১৭ সালে তাঁর র‌্যাংকিং ছিল ১০০৫! এ সপ্তাহে প্রকাশিত সবশেষ র‌্যাংকিংয়ে সেই উডসই এখন ৫০ নম্বরে।

২০১৪ থেকে তিন বছরে চারবার পিঠে অস্ত্রোপচার করার ধকলটা কাটিয়ে উঠতে পারছিলেন না কোনোভাবেই। অনেকে শেষও দেখে ফেলেন ৪২ বছর বয়সী এই তারকার। পতনের কিনারে থেকে ফিনিক্স পাখির মতো আবারও উড়েছেন টাইগার। গত রবিবার শেষ হওয়া বছরের তৃতীয় মেজর টুর্নামেন্ট ‘দ্য ওপেন’-এ খুব কাছাকাছি ছিলেন শিরোপা জয়ের। একটা সময় ছিলেন শীর্ষেও। ব্রিটিশ দর্শকরা উৎসাহ দিচ্ছিল ‘কামিং হোম’ স্লোগানে। শেষ পর্যন্ত ডাবল বগি করে ১৫তম মেজর জেতা হয়নি টাইগার উডসের। ৫ আন্ডারে হয়েছেন যৌথভাবে ষষ্ঠ। ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী এই টুর্নামেন্টে যৌথভাবে রানার-আপ হওয়া ররি ম্যাকলরয় এর পরও প্রশংসায় ভাসালেন টাইগারকে, ‘তিনি ১৪টি মেজর জিতেছেন। এতগুলো অস্ত্রোপচারের ধকল সামলে ৪২ বছর বয়সে খেললেন চ্যাম্পিয়নের মতো। অনেক শেখার আছে তাঁর কাছ থেকে। আমি নিশ্চিত, আরো দু-তিনটি মেজর জিতবেন তিনি।’

খুশি টাইগার উডস নিজেও। স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হলেও ১১ বছর বয়সী মেয়ে সন আর ৯ বছরের ছেলে চার্লি সঙ্গেই থাকে এই কিংবদন্তির। তাদের জন্যও ভালো খেলার অনুপ্রেরণা পান তিনি, ‘আমার দুই সন্তান ছোট থেকে শুনে আসছে ওদের বাবা কিংবদন্তি। কিন্তু আমাকে মেজর জিততে দেখেনি কখনো। ওরা ভীষণ অনুপ্রাণিত করে আমাকে। গত বছরও ভাবিনি ওপেনে অংশ নিতে পারব। সেখানে কিনা একটা সময় শিরোপা জেতার কাছে চলে গিয়েছিলাম। খুব ভালো লাগবে সন্তানদের সামনে মেজর জিততে পারলে।’

সেরেনা উইলিয়ামস ঘনিষ্ঠ বন্ধু টাইগার উডসের। বছরখানেক আগে মা হওয়ার পরও সেরেনাকে উইম্বলডন ফাইনাল খেলতে দেখে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার কথা জানালেন টাইগার, ‘সেরেনা মা হয়েছে এক বছরও হয়নি। এর পরও খেলেছে উইম্বলডন ফাইনাল। ও পারলে আমার না পারার কারণ নেই।’ ভক্তরা এমন গর্জন শুনতে চায় টাইগারের। তাহলেই সম্ভব ১১ বছর পর ১৫তম মেজর জেতা। এপি