রাজনীতি

আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চায় বিএনপি

ভুবন বাংলা২৪ ডেস্ক রিপোর্ট: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। যদিও বিএনপি বরাবরই একটি আন্দোলনকে সংগঠিত করার চেষ্টা করেছে। তা হোক আর না হোক দলটি যে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে সে পরিকল্পনা অনেক আগের। বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা মারফত জানা গেছে, আন্দোলন, সংগ্রামের হুমকিতে সরকারের অবস্থান বিবেচনা করে আন্দোলনের অংশ হিসেবেই সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে বিএনপি। সেই অর্থে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করাটা বিএনপির জন্য আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্যায় বলেও মনে করেন নেতারা।

বিএনপির নয়াপল্টন পার্টি অফিস সূত্রের বরাতে জানা যায়, প্রথম ও দ্বিতীয় দফা সংলাপে বসে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও অন্যান্য দাবি-দাওয়ার বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট মনোভাব বুঝতে পেরে বিকল্প চিন্তা করতে বাধ্য হয়েছে বিএনপি। বিএনপি মনে করে, নির্বাচনের পূর্বে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে সরকারের রোষানলে পড়তে হবে বিএনপিকে। বিশৃঙ্খলার কারণে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির সম্ভাবনা উবে যেতে পারে। এছাড়া তফসিল ঘোষণার পর দেশবাসীর নির্বাচনী আমেজ অনুভব করে বিএনপি সহিংসতার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত করেছে। পাশাপাশি সংসদে ফিরে গিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে দরকষাকষি করাকেও বেশি কার্যকরী মনে করছেন তারেক রহমান।

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ১০ নভেম্বর সকালে মির্জা ফখরুলকে ফোন করে নির্বাচনের ব্যাপারে প্রস্তুতি নিতে চিন্তা-ভাবনা করার নির্দেশ দিয়েছেন তারেক রহমান। এসময় মির্জা ফখরুলের সঙ্গে থাকা মোহাম্মদপুর থানা যুবদলের সহ-সভাপতি আনাম হোসেনের বরাতে জানা যায়, তারেক রহমান মনে করেন- বিএনপিকে জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা পেতে হলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হবে। কারণ, ভোটের রাজনীতির বাইরে বিএনপির কোন অবস্থান নেই। এছাড়া নির্বাচন নিয়ে সরকার যেমন বদ্ধপরিকর তাতে বিএনপির পক্ষে অন্তত নির্বাচন প্রতিরোধের চেষ্টাও অসম্ভব। তাই তারেক রহমান মনে করছেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণই হতে পারে বিএনপির ‘সরকারবিরোধী আন্দোলন’।

এ বিষয়ে বিএনপি নেতা জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, আমরা কিন্তু বলিনি যে, নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো না। নির্বাচন প্রক্রিয়ার সংস্কার নিয়ে বিএনপির আপত্তি রয়েছে। রাজনীতি ও নির্বাচন একে অপরের পরিপূরক। সেই অর্থে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে রাজনীতি ও আন্দোলনের বিষয় মাথায় রেখে। বিগত নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে বিএনপি যে ভুল করেছিল, সেটির পুনরাবৃত্তি করাটা আত্মহত্যার শামিল হবে। সরকারকে নিজেদের গুরুত্ব বোঝাতেই বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার কথা ভাবছে। ভোটের মাধ্যমে সরকারকে উচিত শিক্ষা দেবে বিএনপি।

এদিকে বিষয়টিকে একটু ভিন্নভাবে বিশ্লেষণ করে বিএনপির সিনিয়র নেতা মওদুদ আহমেদ বলেন, খালেদা জিয়াও চান বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। সেক্ষেত্রে আমাদের প্রায়োরিটি হবে বিজয় ছিনিয়ে এনে দেশকে নতুন সরকার উপহার দেওয়া। বিএনপির নির্বাচনে অংশগ্রহণ করাকে ভিন্নভাবে দেখার তেমন কিছু নেই। কেউ যদি মনে করে- বিএনপি আন্দোলনে ভয় পেয়ে সরকারের অধীনেই নির্বাচন করবে, তাহলে সেটি ভুল হবে। আমরা দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে চাই না। আমাদের প্রথম প্ল্যান ছিলো সরকারের সঙ্গে সংলাপে বসে দাবি আদায় করা। প্রথম প্ল্যান বিফল হওয়ায় দ্বিতীয় প্ল্যান হিসেবে আমরা নির্বাচনে যাওয়ার পরিকল্পনা করছি। এটি আমাদের আন্দোলনের দ্বিতীয় অংশও বলতে পারেন।