জাতীয়

অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির চালক খুব সীমিত

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেছেন, ‘আমাদের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির চালক খুব সীমিত। এর মধ্যে প্রধান চালক হচ্ছে তৈরি পোশাক খাত। তাই এর গতি-প্রকৃতির ওপর নির্ভর করছে দেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ। এই খাতের প্রবৃদ্ধি শুধু দেশীয় দৃষ্টিভঙ্গির না বরং আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারণী বিষয় জড়িত। যেমন ট্রাম্প যুগে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্যিক যুদ্ধে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প লাভবান হতে পারে বলে নীতিনির্ধারণী মহল মনে করছেন।

গতকাল দুপুরে চট্টগ্রামের র‌্যাডিসন ব্লু বে-ভিউ হোটেলে ‘ড্রাইভিং ট্রান্সফরমেশন ইন বিডি অ্যাপারেল ইন্ডাস্ট্রি ইন চিটাগং’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। পিডাব্লিউসি-বিজিএমইএ আয়োজিত এই সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক। সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন পিডাব্লিউসি, বাংলাদেশের ম্যানেজিং পার্টনার মামুন রশিদ।

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘কারিগরি শিক্ষাকে বাংলাদেশে গরিবের শিক্ষা—এ ধরনের একটি নেতিবাচক ধারণা আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে। কিন্তু গার্মেন্টশিল্পের প্রাযুক্তিক পরিবর্তনের কথা বলা হচ্ছে যেখানে, সেখানে দক্ষ শ্রমশক্তি একটি বড় ইস্যু। দক্ষ শ্রমশক্তি সৃষ্টিতে সরকারের সঙ্গে উদ্যোক্তাদের নিবিড়ভাবে কাজ করতে হবে।’

মামুন রশিদ বলেন, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধিতে পোশাকশিল্পের অবদান মুখ্য। রপ্তানি প্রবৃদ্ধির নেতিবাচক প্রবণতা নীতিনির্ধারকদের উদ্বেগজনক বিষয়। এ কারণে বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে প্রাযুক্তিক পরিবর্তন প্রয়োজন। সেক্টরের প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর জন্য প্রক্রিয়াকরণ, প্রযুক্তি এবং সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা প্রয়োজন। আমাদের বিশ্বব্যাপী সর্বোত্তম চর্চা গ্রহণ করতে হবে ও বাজারের চাহিদার দিকে নজর দিতে হবে।

বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক বলেন, ‘অ্যালায়েন্স ঘোষণা করেছে তারা আগামী ডিসেম্বরের পরে আর বাংলাদেশে থাকবে না। এর অর্থ হচ্ছে তারা এমন সময় বাংলাদেশের গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রির কাজের পরিবেশকে নিরাপদ ঘোষণা করছে যখন আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বলা হচ্ছে, ট্রাম্প সরকার চীনা পণ্যের ওপর আলাদা করে শুল্ক বসাতে যাচ্ছে। এতে বাংলাদেশ লাভবান হবে বলেও ধারণা করছেন সবাই। কিন্তু এই সুযোগটি নিতে হলে আমাদের সেভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। বিশ্বে চীন, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া আমাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। তাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে আমাদের প্রাযুক্তিক সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।’

বিজিএমইএর সাবেক প্রথম সহসভাপতি এম এ সালাম বলেন, ‘শুধু আমরা দক্ষ হলে হবে না, যারা আমাদের পরিচালিত হবে তাদেরও সমানভাবে সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। প্রাযুক্তিক দক্ষতা অর্জনে যদি আধুনিক যন্ত্রপাতি আনতে হয় সে ক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হয়। ব্যাংকগুলো চিৎকার করে বলে তাদের সুদের হার ৯ শতাংশ। কিন্তু টাকা নিতে গেলেই দেখবেন শুভঙ্করের ফাঁকি। অথচ হংকং কিংবা বহির্বিশ্বের ব্যাংকিং চ্যানেল থেকে দেড় থেকে ২ শতাংশে ঋণ আনতে পারি। কিন্তু সে ক্ষেত্রে সরকারি নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে।’

বিজিএমইএর আরেক সাবেক প্রথম সহসভাপতি আবু তৈয়ব বলেন, “আমরা উদ্যোক্তারা ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত করেছি। নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও সেটা প্রমাণ করেই চলেছি। কোনো সরকারের ওপর নির্ভর করব না।”