লাইফস্টাইল

অন্তঃসত্ত্বা নারীদের চন্দ্রগ্রহণ দেখলে তাদের গর্ভস্থ সন্তানের কি ক্ষতি হয় কি?

শুক্রবার পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ১৩ মিনিট ৬ সেকেন্ডে শুরু হওয়া চন্দ্রগ্রহণ শেষ হবে ভোর ৫টা ৩০ মিনিট ২৪ সেকেন্ডে। এমনটা জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর। শুক্রবার মধ্যরাতে দেখা যাবে শতাব্দীর দীর্ঘতম চন্দ্রগ্রহণ। এদিন প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে ছায়াচ্ছন্ন থাকবে চাঁদ। আর এই চন্দ্রগ্রহণকে ঘিরে মানুষের আগ্রহের শেষ নেই। অনেকে হয়তো অপেক্ষা করে আছেন কখন দেখা মিলবে চন্দ্রগ্রহণের।

আর এই চন্দ্রগ্রহণ দেশে বহুল প্রচলিত কিছু কুসংস্কার রয়েছে। বিশেষ করে চন্দ্রগ্রহণের সময় ঘরের বাইরে বেরোতে নেই, খাবার থাকলে তা ফেলে দিতে হয়, অন্তঃসত্ত্বা নারীদের খুবই সাবধানে থাকতে হয়। কেননা নারীর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় হল গর্ভাবস্থা। শুধু নারী নয়, তার শিশুর জীবন কীভাবে গড়ে উঠবে তা অনেকটাই নির্ভর করে এ সময়ের ওপরে।

দুঃখজনক হলেও সত্যি,যে সময়টাতে নিবিড় পরিচর্যা এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশের মাঝে গর্ভবতী মায়ের থাকা উচিত সে সময়টাতেই কিছু ভুল ধারণার কারণে তাকে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়। বাংলাদেশের শিক্ষিত পরিবারগুলোতেও বিভিন্ন ধরনের কুসংস্কারের প্রচলন দেখা যায়।

যেমন, চন্দ্রগ্রহণ, সূর্যগ্রহণ, ঠিক দুপুরবেলা, সন্ধ্যাবেলা, মাঝরাত এসব সময়ে বাইরে বের হওয়া যাবে না- এমন একটা প্রথা তো আপনারা জানেন, তাই না? এর কতটুকু ভিত্তি আছে বলে আপনাদের মনে হয়? উত্তর- একটুও না। গ্রহণের সময়ে কাজ করা যাবে না, খাওয়া যাবে না- এমন প্রথা একেবারেই ঠিক নয়।

আসুন জেনে নেই অন্তঃসত্ত্বা নারী চন্দ্রগ্রহণ দেখলে গর্ভের সন্তানের ক্ষতি হয় কি না? এর কোনো বৈজ্ঞানিক যুক্তি আছে কিনা।

অন্তঃসত্ত্বা নারী:অনেকে প্রশ্ন করেন অন্তঃসত্ত্বা নারীদের চন্দ্রগ্রহণ দেখলে তাদের গর্ভস্থ সন্তানের কি ক্ষতি হয়? একেবারেই তা হয় না। জ্যোতিষ মতে, এমন ধারণা একেবারেই ভুল। গ্রহণের সময়ে অন্তঃসত্ত্বা নারীরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। তার বা সন্তানের কোনও ক্ষতির সম্ভাবনাই নেই এর থেকে।

খাওয়া বা পান করা: প্রায়ই শুনে থাকবেন চন্দ্রগ্রহণের সময়ে কিছু খাওয়া বা পান করা কি উচিত? গ্রহণের সময়ে খাওয়া পা পান করায় বৈজ্ঞানিকভাবে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। যোগ নেই ধর্মের সঙ্গেও। শুধুই কুসংস্কারের বশে আজকের যুগেও অনেকে গ্রহণের সময়ে খাওয়াদাওয়া বা পানি পানও করেন না। এমনকি বাড়তি খাবার থাকলে তা ফেলেও দেন অনেকে।

পশুদের আচরণে পরিবর্তন: চন্দ্রগ্রহণের সময়ে নাকি অনেক পশুর আচরণে পরিবর্তন দেখা যায়! চন্দ্রগ্রহণের সময় পশুপাখিরা অযথা ডাকাডাকি করে, ডানা ঝাপটায়। এর কারণ, অসময়ে অন্ধকার হয়ে যাওয়া। ২০১০ সালেই এমন তথ্যই প্রকাশ করা হয় পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃতত্ত্ব বিভাগ থেকে।

মানুষের মন:মানুষের মনে কি কোনও প্রভাব ফেলে চন্দ্রগ্রহণ? নাসা এমন তথ্য মানতে একেবারেই রাজি নয়। চন্দ্রগ্রহণের সময়ে কোনো ব্যক্তির মানসিক সমস্যা হলে তা একেবারেই তার মনের ব্যাপার। ছোটবেলা থেকে শুনে আসা ভয়গুলোই কাজ করে। এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই বলেই জানাচ্ছে নাসা।

অসুস্থ: চন্দ্রগ্রহণের সময় মানুষ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এক সমীক্ষায় এমন তথ্যই উঠে এসেছিল। চন্দ্রগ্রহণের সময়ে প্রচুর মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল কার্ডিওভাসকুলার সমস্যা, করোনারি, ইউরিনারি, হেমারেজের সমস্যা নিয়ে। কিন্তু শারীরিক এই সমস্যাগুলো যে চন্দ্রগ্রহণের জন্যই হয়েছিল তা প্রমাণসাপেক্ষ।