ক্রিকেট

অধিনায়ক হচ্ছেন মাশরাফির প্রিয় সেই তরুণ টাইগার

ভুবনবাংলা স্পোর্টস ডেস্ক : আঙুলের চোট নিয়ে খেলার বাইরে আছেন ষাকিব আল হাসান। বাংলাদেশের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি দলের নিয়মিত অধিনায়ক সাকিব আল হাসান চিকিৎসার জন্য এখন আছেন অস্ট্রেলিয়ায়। এ বছর আন্তর্জাতিক কোনো ম্যাচেই খেলতে পারবেন না এ বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। সামনে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ রয়েছে।

২১ অক্টোবর প্রথম ওয়ানডে দিয়ে মাঠে গড়াবে সিরিজ। সাকিব ছিটকে যাওয়ায় আসন্ন জিম্বাবুয়ে সিরিজে বাংলাদেশ টেস্ট দলের নেতৃত্বভার কার হাতে তুলে দেওয়া হবে তা নিয়ে দোটানায় বিসিবি! যতটুকু জানা গেছে তাতে অন্তর্বর্তীকালীন অধিনায়কের দায়িত্ব পাওয়ার রেসে সবার চেয়ে এগিয়ে আছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। আবার মুশফিকুর রহিমের হাতেও তুলে দেওয়া হতে পারে নেতৃত্বের ঝাণ্ডা।

বিসিবির একটা পক্ষ আবার তরুণ নেতৃত্বের পক্ষে! কর্তাদের কেউ কেউ চাইছেন ২০১৬ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া মেহেদী হাসান মিরাজকেই দেওয়া হোক অধিনায়কের দায়িত্ব!

মাহমুদউল্লাহ গতকাল জানিয়েছেন, অধিনায়ত্ব করতে তিনি প্রস্তুত। বলেছেন, যদি এ ধরনের সুযোগ আসে আমি তৈরি।

২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ফিল্ডিং করার সময় বাঁ হাতের কনিষ্ঠায় চোট পান সাকিব। ফলে শ্রীলংকার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে খেলা হয়নি তার। ওই সিরিজে অধিনায়কের ঝাণ্ডা তুলে দেওয়া হয়েছিল মাহমুদউল্লাহর হাতে। শ্রীলংকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ ১-০ ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। চট্টগ্রামে ড্র করলেও ঢাকা টেস্ট ২১৫ রানে জিতে নেয় লংকানরা।

গত বছরের অক্টোবরে সাউথ আফ্রিকা সিরিজে দলের ভরাডুবির পরই মুশফিকের কাছ থেকে টেস্টের নেতৃত্বভার কেড়ে নিয়ে তা সাকিবের হাতে দ্বিতীয় দফায় তুলে দেওয়া হয়েছিল। এদিকে তরুণ প্রতিভা মিরাজের অসাধারণ নেতৃত্বগুণেই ২০১৬ আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে সেরা সাফল্য পেয়েছিল বাংলাদেশ। যুব বিশ্বকাপে প্রথমবার সেমিফাইনাল খেলেছিল জুনিয়র টাইগাররা।

ভবিষ্যতের ভাবনা থেকেই মিরাজকে পরখ করে দেখতে চান বোর্ড কর্তারা। এ কারণেই তাকে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক হিসেবে ভাবা হচ্ছে! যদিও এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বিসিবি। ১৫ অক্টোবর থেকে বাংলাদেশ দলের ক্যাম্প শুরু হওয়ার কথা। তার পরই টেস্ট দলের অধিনায়কের বিষয়ে ভাবা হবে। এমনকি ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজেও তিনিই টেস্ট দলকে নেতৃত্ব দেবেন।

এদিকে চোটের কারণে জিম্বাবুয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হোম সিরিজে খেলা হবে না দলের সিনিয়র কয়েক ক্রিকেটারের। বাঁ হাতের কব্জিতে চোট পাওয়া তামিম ইকবাল দেড় মাসের মধ্যে অনুশীলন ও দুই মাসের মধ্যে ম্যাচে ফিরতে পারবেন। আঙুলে আঘাত পাওয়া মাশরাফি দুই সপ্তাহের মধ্যে খেলার মতো অবস্থায় ফিরে আসবেন। তবে আঙুলের ইনজুরি ছাড়াও মাশরাফির ছোট একটা থাই ইনজুরিও রয়েছে।

এ ছাড়া এশিয়া কাপে পাকিস্তান ম্যাচ চলাকালে তার পায়ে একটি বল সরাসরি আঘাত হানে। ফলে ঊরুতে রক্ত জমে যায়। মুশফিকেরও পাঁজরে চোট রয়েছে। যদিও গত পরশু থেকে জিম শুরু করেছেন বাংলাদেশের উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান। মাহমুদউল্লাহরও ছোটখাটো চোট সমস্যা রয়েছে, যদিও তা গুরুতর নয়। জিম্বাবুয়ে সিরিজে তামিম ও সাকিব যে খেলছেন না, তা তো নিশ্চিত।

মাশরাফির খেলা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহর খেলার সম্ভাবনা প্রবল। ২-৩ জন সিনিয়র ক্রিকেটার না খেলায় জিম্বাবুয়ে সিরিজে দলের হাল ধরতে হবে তরুণদেরই। অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে উড়াল দেওয়ার আগে সাকিব আল হাসান জানিয়ে গেছেন, সিনিয়র কয়েকজন না খেললেও কোনো সমস্যা হবে না। জুনিয়রদের ওপর শতভাগ আস্থা রাখছেন তিনি।

আসন্ন সিরিজের চূড়ান্ত দলে আবারও দেখা যেতে পারে এনামুল হক বিজয়কে। এ ছাড়া সৌম্য, ইমরুল, মিঠুনরা তো থাকছেনই! তবে যতটুকু জানা গেছে, এশিয়া কাপের দলে থাকলেও জিম্বাবুয়ে সিরিজের দলে জায়গা পাচ্ছেন না নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল হক ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত!